“মাসে মাসে ১৭,০০০ টাকা নিশ্চিত আয়!”-প্রবীণদের জন্য সেরা সুযোগ আনল পোস্ট অফিস

অবসর গ্রহণের পর একটি স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সুরক্ষিত বার্ধক্য উপভোগ করার জন্য যত দ্রুত সম্ভব বিনিয়োগ শুরু করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যাঁরা অবসরের পরেও একটি নিশ্চিত ও নিয়মিত আয়ের পথ খুঁজছেন, তাঁদের জন্য ভারতীয় ডাকঘরের ‘পোস্ট অফিস সিনিয়ার সিটিজেন সেভিংস স্কিম’ (Post Office Senior Citizen Savings Scheme) অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও লাভজনক একটি বিকল্প হতে পারে। এই সরকারি প্রকল্প যেমন একদিকে উচ্চ সুদের হারের নিশ্চয়তা দেয়, তেমনই অন্যদিকে বার্ধক্যের আর্থিক নিরাপত্তাও সুনিশ্চিত করে। এই প্রকল্পে এককালীন বিনিয়োগের মাধ্যমে ঘরে বসেই প্রতি মাসে ১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

ঝুঁকিমুক্ত সঞ্চয় ও আকর্ষণীয় সুদ:

বিশেষভাবে প্রবীণ নাগরিকদের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে এই পোস্ট অফিস স্কিমটি। এটি সম্পূর্ণ একটি ঝুঁকিমুক্ত সঞ্চয় প্রকল্প, কারণ ডাকঘরের এই ধরনের সরকারি প্রকল্পে বিনিয়োগ করা অর্থের নিরাপত্তা সরাসরি সরকার সুনিশ্চিত করে। ফলে কোনো রকম বাড়তি দুশ্চিন্তা ছাড়াই নাগরিকরা এখানে ইচ্ছেমতো টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন।

ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডি-র সুদের হারকে অনেক সময়ই পিছনে ফেলে দেয় এই প্রকল্প। বর্তমানে পোস্ট অফিস সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিমে দুর্দান্ত ৮.২ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে। দেশের যে কোনো নিকটবর্তী ডাকঘরে গিয়ে সহজেই এই প্রকল্পের অধীনে অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব।

বিনিয়োগের নিয়ম ও বয়সসীমা:

পোস্ট অফিসের ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়, কারণ এখানে নামমাত্র টাকা দিয়েও বিনিয়োগ শুরু করা যায়। সিনিয়র সিটিজেন স্কিমেও মাত্র ১,০০০ টাকা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ রয়েছে। তবে এই প্রকল্পে সিঙ্গল অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের সীমা ১০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং জয়েন্ট অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে তা ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে।

অবসর পরবর্তী জীবনকে চাপমুক্ত করতে সাহায্যকারী এই প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য বয়সের নির্দিষ্ট কিছু মাপকাঠি রয়েছে। ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সের যে কোনো ভারতীয় নাগরিক সিঙ্গল অ্যাকাউন্ট অথবা জীবনসঙ্গীর সঙ্গে যৌথভাবে (Joint Account) এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এ ছাড়া, যাঁরা স্বেচ্ছায় অবসর বা VRS নিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বয়স ৫৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হলে তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি, ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সি অবসরপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা কর্মীরাও এই প্রকল্পে বিনিয়োগের যোগ্য।

ট্যাক্স ছাড়ের সুবিধা ও ৫ বছরের মেয়াদ:

পোস্ট অফিসের এই স্কিম শুধু নিয়মিত আয়ের নিশ্চয়তাই দেয় না, এর পাশাপাশি আকর্ষণীয় কর বা ট্যাক্স ছাড়ের সুবিধাও পাওয়া যায়। আয়কর আইনের ৮০সি (80C) ধারার অধীনে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত কর ছাড়ের সুবিধা মিলছে। এই সঞ্চয় প্রকল্পটির সাধারণ মেয়াদ ৫ বছর এবং পুরো সুবিধা পেতে হলে স্কিমটি নিয়ম মেনে ৫ বছর পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক। তবে মেয়াদের আগে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে চাইলে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী জরিমানার সংস্থানও রয়েছে।

কীভাবে মিলবে মাসে ১৭ হাজার টাকা?

এই প্রকল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি হলো এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ১৭ হাজার টাকা বা তার বেশি আয় করার সুযোগ। হিসাবটি অত্যন্ত সহজ—পোস্ট অফিস সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিমের নিয়ম অনুযায়ী কোনো দম্পতি বা ব্যক্তি যৌথ অ্যাকাউন্টে এককালীন ২৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে এই লাভ পাওয়া সম্ভব। বর্তমানের ৮.২ শতাংশ সুদের হারে, ৫ বছরের মেয়াদে বার্ষিক সুদ বাবদ আয় হবে প্রায় ২ লক্ষ ৫ হাজার টাকা। এই সুদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ৫১,২৫০ টাকা করে দেওয়া হয়, যা মাসিক হিসাবে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৭,০৮৩ টাকা। ফলে অবসরের পর হাতখরচ বা দৈনন্দিন খরচের জন্য আর কারোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবে না।