ঢেঁড়স চাষে বড় বিপর্যয়! উত্তরপ্রদেশে ‘ইয়েলো ভেইন মোজাইক’ ভাইরাসের হানায় মাথায় হাত কৃষকদের!

উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ঢেঁড়স চাষে বড় ধরনের সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ফসলে ‘ইয়েলো ভেইন মোজাইক ভাইরাস’-এর তীব্র আক্রমণ দেখা দেওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। এই রোগটি মূলত পাতার শিরা হলুদ হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে নিজের বিস্তার শুরু করে এবং খুব দ্রুত পুরো গাছটিকে গ্রাস করে ফেলে। সময়মতো এই রোগ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ঢেঁড়সের ফলন এবং গুণমান দুটোই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
জেলা উদ্যানপালন কর্মকর্তা ডঃ পুনীত কুমার পাঠক জানিয়েছেন যে, ঢেঁড়সের এই বিপজ্জনক ভাইরাসটি মূলত সাদা মাছির মতো রস চোষা পোকামাকড়ের মাধ্যমে এক গাছ থেকে অন্য গাছে ছড়িয়ে পড়ে। তাই খেতের মধ্যে রোগাক্রান্ত গাছপালা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি এই ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। হলুদ শিরা মোজাইকের প্রাথমিক লক্ষণ পাতার শিরার চারপাশে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি থমকে যায়। মারাত্মক সংক্রমণের ক্ষেত্রে পাতা সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায় এবং গাছে ফল ধরা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলের আকার, রঙ বা গুণমানে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখলে কৃষকদের দ্রুত পুরো খেত পরিদর্শন করতে হবে।
কোনো গাছে এই রোগের লক্ষণ দেখা মাত্রই সেটিকে জমিতে ফেলে রাখা উচিত নয়। আক্রান্ত গাছটিকে অবিলম্বে সাবধানে উপড়ে ফেলে জমির বাইরে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে বা মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া বাঞ্ছনীয়। এর ফলে সংক্রমণের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়। এছাড়া নিয়মিত জমি পরিদর্শন করে পাতার নিচের অংশে সাদা মাছির উপস্থিতি পরীক্ষা করতে হবে। যেকোনো কীটনাশক বা রাসায়নিক কেবল কৃষি বিশেষজ্ঞ বা স্থানীয় কৃষি বিভাগের নির্দেশিকা মেনে ব্যবহার করা উচিত।
সাদা মাছি দমনের জন্য খেতজুড়ে হলুদ আঠালো ফাঁদ ব্যবহার করা অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে। সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে অর্গানিক বা নিম-ভিত্তিক পণ্য ব্যবহারেও ভালো ফল মেলে। খেত সবসময় আগাছামুক্ত রাখা এবং সঠিক মাত্রায় সুষম সার ও সেচ দেওয়া জরুরি। পরবর্তী চাষের জন্য সবসময় প্রত্যয়িত ও রোগমুক্ত বীজ নির্বাচন করা উচিত।