“ফি বছর কোটালে ভাঙে নদী-বাঁধ!”-গঙ্গাসাগর সৈকত বাঁচাতে বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন রাজ্য

২০২৩ সালে কপিলমুনি মন্দিরের সামনে প্রায় ১৬ কোটি টাকা খরচ করে টেট্রাপড বসানো হলেও সমুদ্রের আগ্রাসী ঢেউয়ের হাত থেকে রক্ষা মিলছে না গঙ্গাসাগরের উপকূলবর্তী এলাকার। আমাবস্যা বা পূর্ণিমার কোটালে নদী-বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। অতীতে মেরামতির নামে সাময়িকভাবে মাটি ফেলার বন্দোবস্ত করা হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই তা ফের সমুদ্রের গ্রাসে ভেঙে পড়ে। ফলে কোটি কোটি টাকা খরচ হওয়া সত্ত্বেও কোনো স্থায়ী সমাধান না পেয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং দেশবিদেশ থেকে আসা পুণ্যার্থীরা।
এই পরিস্থিতিতে গঙ্গাসাগর সমুদ্র সৈকত ও কপিলমুনি মন্দির চত্বরকে রক্ষা করতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। অতীতে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা পূর্ণতা পায়নি। তবে এবার নেদারল্যান্ডস এবং আইআইটি মাদ্রাজের একদল বিশেষজ্ঞের তৈরি করা বৈজ্ঞানিক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে একটি আধুনিক ‘বিচ নারিশমেন্ট স্কিম’ বা সৈকত পুষ্টি প্রকল্পের কাজ শুরু হতে চলেছে। সেচ দফতরের অনুমোদন মেলার পরেই দ্রুত টেন্ডার ডেকে কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের ঢেউয়ের মারাত্মক ধাক্কা রোখা এবং সৈকতে পর্যাপ্ত পলি ধরে রাখাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জলোচ্ছ্বাস বাড়লেই ভাঙনের মাত্রা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এই সমস্যার বৈজ্ঞানিক মোকাবিলার জন্য ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে উন্নত মানের বালি সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট সৈকত অংশে ও বাঁধের নিচে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি প্রাকৃতিকভাবে পলি ধরে রাখতে সাহায্য করবে এবং সমুদ্র বাঁধের দীর্ঘস্থায়িত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে। আসন্ন সাগর মেলার পরেই পুরোদমে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।