‘সব তথ্য এবার প্রকাশ্যে আনব!’ অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মমতার অভিযোগ ওড়াতেই কড়া হুংকার শুভেন্দুর

অন্নপূর্ণা যোজনায় যোগ্য উপভোক্তা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বর্তমান বিজেপি সরকার পক্ষপাতিত্ব করছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর সেই সমস্ত দাবি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে তিনি পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আমলের সমস্ত দুর্নীতির ফাইল ও তথ্য খুব শীঘ্রই প্রকাশ্যে আনা হবে।

কী অভিযোগ তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

অন্নপূর্ণা যোজনায় সুবিধাভোগী বাছাই পর্ব ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন পারদ চড়েছে। ভোটের আগে সবাইকে এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হলেও, এখন কেন যোগ্য ও অযোগ্য বাছাই করা হচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক লাইভে এসে তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সরকার ধর্ম ও বর্ণ বিচার করে এই প্রকল্পের টাকা বিলি করছে। ভোটের আগে এই বাছাবাছির কথা কেন বলা হয়নি, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

পরিসংখ্যান দিয়ে মমতার দাবি ওড়ালেন শুভেন্দু

মমতার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট পরিসংখ্যান দিয়ে জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্যের ১ কোটি ৪৫ লক্ষেরও বেশি যোগ্য মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। খুব শীঘ্রই আরও ২০ থেকে ২৫ লক্ষ মহিলা এই ভাতার আওতায় আসতে চলেছেন।

ধর্মীয় বিভাজনের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “যোগ্যরা সকলেই পাবেন। ধর্ম-বর্ণ দেখে কাউকে অন্নপূর্ণা যোজনা দেওয়া হচ্ছে না। এখনও পর্যন্ত ১৯ লক্ষ সংখ্যালঘু মহিলাকে এই প্রকল্পের সহায়তা করা হয়েছে।” এরপরই পূর্বতন সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “উনি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন আবাস যোজনার টাকা বেছে বেছে নির্দিষ্ট পরিবারে দিতেন। সেই সমস্ত তথ্য আমাদের হাতে আছে। বেশি কথা বললে সব তথ্য বের করব।”

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ ও পরামর্শ

সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, অন্নপূর্ণা পোর্টালের মাধ্যমে আসা লক্ষাধিক অভিযোগের ভিত্তিতেই স্বচ্ছভাবে কাজ হচ্ছে। বাছাবাছির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এরপর ব্যক্তিগত স্তরে খোঁচা দিয়ে তিনি পরামর্শ দেন, বয়স হয়েছে, তাই রাস্তায় না ঘুরে বাড়িতে বসেই যেন তিনি ফেসবুক লাইভ করেন। বর্তমান সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে বলেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পরিবার নিরাপদে থাকতে পারছেন বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।