সর্দি-কাশি থেকে বাঁচতে ওষুধের দিন শেষ! ঘরে থাকা এই ৬ আয়ুর্বেদিক ভেষজেই গায়েব হবে সব রোগ

আবহাওয়া একটু বদলালেই হাঁচি, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা কিংবা হালকা জ্বরে কাবু হন অনেকেই। বিশেষ করে একদিন গরম, পরের দিন বৃষ্টি বা হঠাৎ তাপমাত্রার ওঠানামায় ভাইরাসজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। এই সময়ে অনেকেই ওষুধের পাশাপাশি ঘরোয়া উপায়ের সাহায্য নেন। আয়ুর্বেদে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত কয়েকটি ভেষজ সর্দি-কাশি বা গলার অস্বস্তির মতো উপসর্গে কিছুটা আরাম দিতে পারে।

১. তুলসী

সর্দি-কাশির সময়ে ভারতীয় ঘরোয়া চিকিৎসায় তুলসীর ব্যবহার বহু পুরনো। তুলসী পাতা দিয়ে গরম চা বা ক্বাথ তৈরি করে খাওয়ার চল রয়েছে। এর কিছু উপাদানের প্রদাহরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

২. আদা

গলা খুসখুস, কাশি বা ঠান্ডা লাগার সময়ে আদা দেওয়া গরম চা বেশ স্বস্তিদায়ক হতে পারে। আদায় থাকা কিছু সক্রিয় উপাদানের প্রদাহরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই আবহাওয়া বদলের সময়ে আদা দিয়ে গরম পানীয় খাওয়া বেশ উপকারী।

৩. হলুদ

সর্দি-কাশির সময়ে অনেক বাড়িতেই হলুদ দেওয়া গরম দুধ খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। হলুদের সক্রিয় উপাদান কারকিউমিনের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও প্রদাহরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তবে এটিকে জ্বর বা সংক্রমণের নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে দেখা উচিত নয়।

৪. গোলমরিচ

আদা, তুলসী ও অন্যান্য মশলার সঙ্গে গোলমরিচ দিয়ে তৈরি গরম ক্বাথ অনেকের কাছে গলা ও নাকের অস্বস্তিতে আরামদায়ক মনে হয়। আয়ুর্বেদিক ক্বাথে তুলসী, আদা, দারচিনি ও গোলমরিচের মতো উপাদান ব্যবহারের প্রচলন দীর্ঘদিনের।

৫. যষ্টিমধু

গলা ব্যথা বা গলা খুসখুসের ক্ষেত্রে যষ্টিমধুর ব্যবহারও বেশ প্রচলিত। সর্দি-কাশির উপসর্গে এটি আরাম দিতে পারে বলে আয়ুর্বেদে মনে করা হয়। তবে অতিরিক্ত যষ্টিমধু খাওয়া ঠিক নয়, বিশেষ করে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে।

৬. গিলয়

আয়ুর্বেদে গিলয় বা গুডুচি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও জ্বরের মতো সমস্যায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে গিলয় অতিরিক্ত বা দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গিলয়ের ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়।