সেপ্টেম্বরের শুরুতেই কি বর্ষার ইতি? আবহাওয়া নিয়ে চিন্তা বাড়াচ্ছে নতুন পূর্বাভাস

দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার মেজাজ ইতিমধ্যে অনেকটাই স্তিমিত হয়ে এসেছে। ভ্যাপসা গরম এবং অস্বস্তিকর আবহাওয়া নতুন করে গ্রাস করেছে রাজ্যবাসীকে। শুধু বাংলা বা এ রাজ্যই নয়, গোটা দেশজুড়েই আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের ছবি স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। আবহাও বিজ্ঞানীদের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বলছে, চলতি বছরে স্বাভাবিক সময়ের অনেক আগেই ভারত থেকে বিদায় নিতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। যার জেরে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই আবহাওয়ায় বড়সড় শুষ্ক ভাব দেখা দিতে পারে।

সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসটি বর্ষার মরশুমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চল বর্ষার শেষ দিকের বৃষ্টির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, তারা সেপ্টেম্বরের বৃষ্টির হাত ধরেই আগের সমস্ত ঘাটতি পূরণ করার সুযোগ পেয়ে থাকে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়া মডেলগুলির সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী চার সপ্তাহের পরিস্থিতি খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। আবহাওয়া মডেলগুলি হিসাব কষে জানিয়েছে যে আগামী ৫ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে দেশের বিস্তীর্ণ অংশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যেতে পারে।

সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে বর্ষার এই দুর্বলতা আরও মারাত্মক আকার ধারণ করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামী ১০ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে মৌসুমী বায়ু সম্পূর্ণভাবে বিদায় নিতে পারে। এই হিসাব যদি শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রমাণিত হয়, তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বর্ষার চ্যাপ্টার ক্লোজ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। এবং দেশজুড়ে ক্রমান্বয়ে শুষ্ক হতে শুরু করবে ওয়েদার।

তবে এখনই দেশের সব প্রান্ত থেকে একযোগে বর্ষা বিদায় নিচ্ছে না। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশে আগামী দু’সপ্তাহ বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এই অঞ্চলগুলিতে বিভিন্ন স্থানীয় আবহাওয়া ব্যবস্থার কারণে বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে। কিন্তু এর বাইরে দেশের অন্যান্য অংশে বর্ষার অ্যাক্টিভিটি বা সক্রিয়তা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, মৌসুমী বায়ুর এই আগাম বিদায়ের প্রভাবে কৃষিকাজ থেকে শুরু করে সাধারণ জনজীবনেও বড় প্রভাব পড়তে পারে। আবহাওয়াবিদরা অবশ্য এও জানাচ্ছেন যে, দীর্ঘমেয়াদি মডেলের এই পূর্বাভাস সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে। যদি এই সময়ের মধ্যে বঙ্গোপসাগর বা অন্য কোনো সমুদ্র এলাকায় নতুন করে কোনো নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়, তবে পুরো আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি এক মুহূর্তে বদলে যেতে পারে। তবে আপাতত দীর্ঘমেয়াদি মডেলের যে ইঙ্গিত মিলছে, তাতে আগামী দু’সপ্তাহের বেশি বর্ষার স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। এরপরই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু এবারের মতো দেশের মাটি থেকে বিদায় নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করতে পারে।