২২ বছর ধরে দাগ! সৌরভের হাত ধরে অভিষেকের পর কোন মারাত্মক অভিযোগে ফেঁসেছিলেন ভারতের এই প্রাক্তন ক্রিকেটার?

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের অধিনায়কত্বে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার দীর্ঘ ২২ বছর পর অবশেষে জীবনের এক মারাত্মক ও কলঙ্কজনক অধ্যায় থেকে মুক্তি পেলেন ভারতের এক প্রাক্তন ক্রিকেটার। ১৯৯৯ সালে সৌরভের নেতৃত্বেই ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক ঘটা ওই লেগ-স্পিনারের আন্তর্জাতিক কেরিয়ার মাত্র দু’বছরের মধ্যে থমকে গেলেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে নেমে এসেছিল ঘোর দুর্দিন। ২০০৪ সালে দায়ের হওয়া একটি সুদীর্ঘ ফৌজদারি মামলায় অবশেষে পাতিয়ালা হাউস কোর্ট জ্যাকব মার্টিনকে সমস্ত অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ বেকসুর খালাস ঘোষণা করেছে। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াই শেষে এই রায়ে গভীর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন এই তারকা।

২০০৪ সালে জ্যাকব মার্টিনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১ এবং ১২০বি ধারাসহ পাসপোর্ট আইনের ১২ নম্বর ধারায় গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের জাল অভিবাসন সিল বা স্ট্যাম্প ব্যবহার, ভ্রমণ ব্যবস্থার জালিয়াতি এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের মতো একাধিক মামলা রুজু করা হয়। তবে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে পাতিয়ালা হাউস কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, প্রসিকিউশন পক্ষ জ্যাকব মার্টিনের বিরুদ্ধে আনা এই গুরুতর অভিযোগগুলির সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেশ করতে পারেনি। এমনকি ‘আজওয়া স্পোর্টস ক্লাব’-এর মালিকানা বা আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগসূত্রের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণও আদালত খুঁজে পায়নি। মামলার একাধিক সাক্ষীও অভিযোগ প্রমাণ করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন।

আদালতের এই রায় প্রকাশ্যে আসার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের দীর্ঘ যন্ত্রণা ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন জ্যাকব মার্টিন। তিনি জানান, ২০০৪ সালে দলের একটি টুর্নামেন্টের সুবাদে যুক্তরাজ্যে যাওয়া এক খেলোয়াড়ের ভিসার মেয়াদ শেষের পরেও অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা এবং পরবর্তীতে ভুয়া ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্প নিয়ে দেশে ফিরে আসার ঘটনার জেরে এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল। মার্টিন উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিক এফআইআর-এ তাঁর নাম না থাকলেও তিনি একজন পরিচিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হওয়ার সুবাদে তদন্ত চলাকালীন তাঁকে জোর করে এই মামলায় জড়ানো হয়।

এই ২২ বছরের দীর্ঘ আইনি লড়াই ও মানসিক চাপ তাঁর গোটা জীবনকে তছনছ করে দিয়েছিল বলে জানান তিনি। মার্টিন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, এই সুদীর্ঘ সময়ের মধ্যে বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি আইনি ঝামেলার জেরে তাঁকে রেলওয়ের স্থায়ী চাকরিটিও হারাতে হয়েছিল। তবে জীবনের এই চরম দুঃসময়ের অবসান ঘটিয়ে আদালত তাঁকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করায় তিনি এখন নতুন করে নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ পেলেন বলে জানিয়েছেন।