কোটি কোটি টাকার সোনা, রাজপ্রাসাদোপম বাড়ি আর বিশাল পার্কিং—সব মিলল, কিন্তু কোথায় সেই ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডল?

বিশাল এলাকা জুড়ে পার্কিং জোন, কোটি কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি, বিপুল সোনাদানা এবং একেবারে রাজপ্রাসাদোপম অট্টালিকা—সবকিছুই উদ্ধার ও হদিশ মিলেছে। কিন্তু যার সাম্রাজ্য, সেই বীরভূমের বিতর্কিত ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডল ঠিক কোথায় আত্মগোপন করে আছেন? এই লাখ টাকার প্রশ্নটিকে কেন্দ্র করে এখন রাজ্যজুড়ে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে। ঠিক এই আবহেই টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে চলা আইনি লড়াই গড়িয়েছে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টে। তবে সিবিআই বা ইডি তথা তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি না হয়ে যেভাবে তিনি আড়ালে থেকে নিজের সাম্রাজ্য সামলাচ্ছেন, তাতে এবার তাঁর বিরুদ্ধে রুজু হওয়া মামলায় সংগঠিত অপরাধের কঠোর ধারার উপর সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপ করল না উচ্চ আদালত।

এদিনের মামলার শুনানিতে বীরভূমের এই দাপুটে ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডলকে পৌরাণিক চরিত্র ‘মেঘনাদ’-এর সঙ্গে তুলনা করতে দেখা যায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যকে। ভরা আদালতে বিচারপতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, “টুলু মণ্ডল রামায়ণের ইন্দ্রজিতের মতো আচরণ করছেন। মেঘের আড়াল থেকে সবকিছু দেখছেন। কোনো বিচক্ষণ ব্যক্তি কি কখনো এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা নিজের আলমারিতে ফেলে রাখেন? এটি স্পষ্টতই একটি সুসংগঠিত অপরাধ। এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপের কারণে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্বের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।” বিচারপতির এই কড়া পর্যবেক্ষণের পরেই মামলায় আইনি পারদ আরও চড়ে গেছে।

অন্যদিকে, আদালতের শুনানিতে টুলু মণ্ডলের আইনজীবী নিজের মক্কেলের পক্ষে সাফাই গেয়ে দাবি করেন যে, পাথর তোলার জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ লাইসেন্স তাঁর মক্কেলের রয়েছে এবং তিনি আইন বিরুদ্ধ বা কোনো বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। আইনজীবীর এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতির বেঞ্চ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, টুলু মণ্ডল যদি মনে করেন তবে তিনি নিয়ম মেনে যথাযথভাবে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন। কিন্তু যেভাবে একের পর এক সম্পত্তির পাহাড় এবং অপরাধের জাল উন্মোচিত হচ্ছে, তাতে বীরভূমের এই পাথরসম্রাটের মাথার উপর থেকে আইনি খড়্গ যে সহজে নামছে না, তা বলাই বাহুল্য।