নিম্নচাপের বৃষ্টিতে জলের তলায় ঝাড়গ্রাম! চাষের জমির পাম্প ঘরে কুণ্ডলী পাকিয়ে বসেছিল বিশালাকার অজগর

টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় বেহাল অবস্থা রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলির। এক নিম্নচাপের রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় দফার নিম্নচাপের জেরে চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ঝাড়গ্রাম জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন জলমগ্ন। নদী-নালা উপচে প্লাবিত হয়েছে চাষের জমি। বাড়িঘর ও জমানো জলের কবল থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীরাও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ের দিকে ছুটতে বাধ্য হচ্ছে। আর এই চরম দুর্বিপাকের মাঝেই ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর-২ নম্বর ব্লকের গড়িগ্রাম থেকে এক রোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল, যা দেখে রীতিমতো চোখ কপালে উঠেছে এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গড়িগ্রামের একটি বিস্তীর্ণ ধান চাষের জমির মাঝখানে অবস্থিত একটি পাম্প ঘর কিছুটা উঁচু থাকায় প্লাবনের হাত থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছিল। প্রতিদিনের মতো এক কৃষক সকালে সেই পাম্প চালাতে যান। কিন্তু পাম্পের সুইচ অন করতে গিয়েই তাঁর একেবারে আক্কেল গুড়ুম হওয়ার উপক্রম হয়। তিনি দেখতে পান, পাম্প ঘরের পিছনের অংশে অত্যন্ত সন্তর্পণে কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘুমিয়ে রয়েছে একটি বিশালাকার অজগর সাপ। জনবহুল এলাকার এত কাছাকাছি এবং চাষের জমির মাঝখানে এমন একটি দানবাকৃতি বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি টের পেতেই স্থানীয়দের মধ্যে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

মুহূর্তের মধ্যে দাবানলের মতো এই খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়তে পাম্প ঘরের সামনে উৎসুক জনতার ভিড় জমতে শুরু করে। একদিকে জলমগ্ন জনপদের আতঙ্ক, অন্যদিকে বিশাল অজগরের ফোঁসফোঁসানি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে সময় নষ্ট না করে দ্রুত খবর দেওয়া হয় এলাকার পরিচিত সর্পপ্রেমী রাহুল দণ্ডপাটকে। খবর পেয়েই তিনি অবিলম্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অত্যন্ত পেশাদারী দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে অজগরটিকে নিরাপদ দূরত্ব থেকে উদ্ধার করেন।

সর্পপ্রেমী রাহুল দণ্ডপাদের এই সাহসিকতার ফলে বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পান স্থানীয় চাষি ও গ্রামবাসীরা। পরবর্তীতে উদ্ধার হওয়া ওই বিশাল অজগরটিকে বনদফতরের আধিকারিকদের হাতে নিরাপদে তুলে দেওয়া হয়। বনদফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রাণীটির প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর তাকে গভীর জঙ্গলে স্বাভাবিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, লাগাতার বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে জঙ্গল প্লাবিত হওয়ায় জলের ধাক্কায় সাপটি ভেসে এসে এই শুকনো পাম্প ঘরে আশ্রয় নিয়েছিল। সময়মতো উদ্ধারকার্য সম্পন্ন হওয়ায় বন্যপ্রাণী ও সাধারণ মানুষ উভয়েই এক বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।