OMG! ভিক্ষুক সেজে ঘুরলেন মেলায়, দুই ইউটিউবারের কত আয় হলো জানেন?

পথে-ঘাটে, বাস-ট্রেনে কিংবা ধর্মীয় মেলায় ‘ভগবানকে নাম পে কুছ দে দে’ কথাটি আমাদের অত্যন্ত চেনা। সাহায্যের আশায় এই সব স্থানে ভিক্ষুকদের ভিড় জমানো নতুন কিছু নয়। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, একটি ধর্মীয় মেলায় একদিনে একজন ভিক্ষুক ঠিক কত টাকা উপার্জন করতে পারেন? সাধারণ মানুষের এই কৌতূহল মেটাতেই এক অভিনব এক্সপেরিমেন্ট করে বসলেন দুই ইউটিউবার। হরিদ্বারের বিখ্যাত কানওয়ার মেলায় নিজের বন্ধুকে ভিখারি সাজিয়ে দাঁড় করিয়ে দিলেন ইউটিবার পুরুষোত্তম বশিষ্ঠ। আর সেই ছদ্মবেশী বন্ধুর একদিনের আয় জানলে রীতিমতো চোখ কপালে উঠবে সবার।
ইউটিউবার পুরুষোত্তম বশিষ্ঠ এবং তাঁর বন্ধু সচিন মিলে এই মজার অথচ ভাবনার খোরাক জোগানো পরিকল্পনাটি করেছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সচিন নিজের গায়ের জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলেন, মুখে কালি মেখে একেবারে অভাবী রূপ ধারণ করেন এবং হাতে একটি বাটি নিয়ে কানওয়ার মেলার ভিড়ের মধ্যে ভিক্ষুক সেজে বসে পড়েন। সবচেয়ে আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাঁর গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয় একটি ‘ইউপিআই কিউআর কোড’-ও। দুই বন্ধু প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো সারাদিনের পরিশ্রমে বড়জোর এক বা দু’হাজার টাকা ঘরে আসতে পারে।
কিন্তু মেলা শুরু হতেই আসল চিত্রটা বদলে যেতে শুরু করে। শুরুতে কিছুটা বেগ পেতে হলেও ধীরে ধীরে পথচলতি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বহু দোকানদার সচিনের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে শুরু করেন। ডিজিটাল পেমেন্টের যুগে কিউআর কোডের মাধ্যমেও কিছু টাকা জমা হতে থাকে। মেলার উপচে পড়া ভিড়, নিরাপত্তারক্ষীদের তাড়া খাওয়া কিংবা হঠাৎ বৃষ্টি নামার মতো হাজারো বাধা বিপত্তি পেলেও দুই বন্ধু তাঁদের এক্সপেরিমেন্ট বন্ধ করেননি।
শেষমেশ হিসাব কষে দেখা গেল, সচিন সেদিন সংগ্রহ করেছেন মোট ৪,০০০ টাকা। দুই ইউটিউবারের দাবি, যদি এই হারে রোজগার চলতে থাকে, তবে একজন ভিক্ষুক প্রতি মাসে অনায়াসেই প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত উপার্জন করতে পারেন। তবে নিজেদের ইউটিউব ভিডিয়োতে দুজনেই স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ভিক্ষাবৃত্তির এই পেশা অত্যন্ত ক্লান্তিকর এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে ভীষণ কষ্টদায়ক। তাঁরা সাধারণ মানুষকে ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে না নিয়ে বরং সৎপথে পরিশ্রম করে উপার্জন করার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
ইতিমধ্যেই পুরুষোত্তম বশিষ্ঠ এই সম্পূর্ণ ঘটনার ভিডিয়োটি ইউটিউবে আপলোড করেছেন, যা মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়েছে। এই ভিডিয়ো সামনে আসার পর থেকেই নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। অনেকেই মন্তব্য করছেন যে, দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানগুলোতে বর্তমানে ভিক্ষাবৃত্তি একটি সুসংগঠিত এবং লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। আবার অপর একটি অংশের মতে, এই ধরনের কৃত্রিম এক্সপেরিমেন্ট কখনোই প্রকৃত অসহায় ভিক্ষুকদের প্রতিদিনের মর্মান্তিক সংগ্রাম এবং বাস্তব কষ্টকে পুরোপুরি ফুটিয়ে তুলতে পারে না।