নাগপঞ্চমীতে এ কী রূপ! গত ৫০ বছর ধরে প্রতি তিন বছর অন্তর নিজেকে ‘মহিষাসুর’ দাবি করে ঘাস খান ৭০ বছরের বৃদ্ধ

উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জ জেলার একটি ছোট্ট গ্রাম বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। নাগপঞ্চমীর দিন সামনে আসা একটি অত্যন্ত আশ্চর্যজনক ও ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, সত্তর বছরের এক বৃদ্ধ মানুষের স্বাভাবিক আচরণ সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে গবাদি পশুর মতো মাটিতে বসে পড়েছেন এবং অবলীলায় খড় ও সবুজ ঘাস চিবোচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তিনি সাধারণ পশুর জলের পাত্র থেকেই তৃপ্তিভরে জলপান করছেন। এই অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নেটপাড়ার সকলেই রীতিমতো হতবাক হয়ে ভাবছেন, কীভাবে এমন অদ্ভুত ঘটনা ঘটা সম্ভব।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনা কোনো একদিনের আকস্মিক ব্যাপার নয়, বরং ১৯৭৫ সাল থেকে চলে আসা এক দীর্ঘদিনের রহস্যময় ঐতিহ্য। গ্রামের প্রবীণদের দাবি, প্রতি তিন বছর অন্তর নাগ পঞ্চমীর পবিত্র তিথিতে সত্তর বছর বয়সী বুদ্ধিরাম নামের ওই ব্যক্তির উপর নাকি অলৌকিক শক্তির প্রভাব পড়ে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই বিশেষ দিনে কোনো অদৃশ্য শক্তি বা ‘মহিষাসুর’ তাঁর শরীরে ভর করে। গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মাতা মন্দিরে বিশেষ পূজা-অর্চনা সম্পন্ন করার পরই তিনি সোজা গ্রামের চারণভূমির দিকে ছুটে যান এবং এই অদ্ভুত আচরণ শুরু করেন।

এই অনন্য ও অবিশ্বাস্য দৃশ্য স্বচক্ষে দেখার জন্য আশেপাশের দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকেও প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ ভিড় জ জমায়। সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের কাছে এটি এক পরম অলৌকিক ঘটনা। ভক্তরা বিশ্বাস করেন যে এই সময়ে ওই ব্যক্তির কাছে কোনো মানত বা প্রার্থনা করলে তা নিশ্চিতভাবে পূরণ হয়। সেই কারণে বহু মানুষ ভক্তিভরে তাঁকে কলা, লাড্ডু, মিষ্টি এবং খড় নিবেদন করেন।

তবে সাধারণ মানুষের এই অগাধ অন্ধবিশ্বাস বা ভক্তির সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র উঠে এসেছে চিকিৎসকমহল ও বিজ্ঞানমনস্ক বুদ্ধিজীবীদের বিশ্লেষণে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও মনোবিদরা একে কোনো অলৌকিক বা দৈবী কৃপা হিসেবে মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, এটি একধরণের বিশেষ শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা হতে পারে। অনেক বিশেষজ্ঞ এই ঘটনাকে ‘পিকা সিনড্রোম’ (Pica Syndrome) নামক একটি মানসিক বা শারীরিক ব্যাধির সঙ্গে যুক্ত করছেন। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায়শই মাটি, কাগজ, চক কিংবা ঘাসের মতো খাদ্যবহির্ভূত অদ্ভুত জিনিস খাওয়ার অস্বাভাবিক প্রবণতা প্রদর্শন করে থাকেন। আবার কেউ কেউ এটিকে গভীর মানসিক সমস্যা বা আচরণগত রোগ হিসেবেও চিহ্নিত করেছেন। একদিকে গ্রামবাসীর সুপ্রাচীন অন্ধবিশ্বাস এবং অন্যদিকে চিকিৎসকদের বৈজ্ঞানিক যুক্তি—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে মহারাজগঞ্জের এই ঘটনাটি বর্তমানে দেশজুড়ে এক রহস্যময় ও আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।