কুখ্যাত শিখ বিরোধী দাঙ্গার অধ্যায় শেষ! চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিহাড় জেলের অন্তরালে প্রয়াত সাজাপ্রাপ্ত সজ্জন কুমার!

১৯৮৪ সালের শিখ বিরোধী হিংসার ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত তথা দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ সজ্জন কুমার আর নেই। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিল্লির একটি হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান হয়েছে। দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি এতদিন দিল্লির কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত তিহাড় জেলে বন্দি ছিলেন। তাঁর এই প্রয়াণের মধ্য দিয়ে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিতর্কিত ও সংবেদনশীল অধ্যায়ের অবসান ঘটল।

হাসপাতাল ও জেল সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আবর্তিত বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতার কারণে তিহাড় জেলের ভেতরেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ৮০ বছর বয়সি সজ্জন কুমার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত তাঁকে নয়াদিল্লির সুপরিচিত সফদরজঙ্গ হাসপাতালে (Safdarjung Hospital) স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৮ সালে দিল্লি হাইকোর্ট ১৯৮৪ সালের শিখ বিরোধী দাঙ্গা মামলার রায় ঘোষণা করে। সেই ঐতিহাসিক রায়ে কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা সজ্জন কুমারকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং তাঁকে আমৃত্যু কারাবাসের সাজা শোনানো হয়। এরপর থেকেই তিনি তিহাড় জেলে বন্দি হিসেবে নিজের সাজা ভোগ করছিলেন। ১৯৮৪ সালের ভয়াবহ দাঙ্গার সময় নয়াদিল্লির পলাম এলাকায় শিখ সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত নৃশংস সহিংসতার ঘটনায় তাঁর প্রত্যক্ষ প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল।

সজ্জন কুমারের এই আকস্মিক প্রয়াণ ও আইনি পরিণতির খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহল এবং দেশজুড়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। চার দশকেরও বেশি পুরনো এই বিচার প্রক্রিয়ায় বহু আইনি মারপ্যাঁচ এবং ঐতিহাসিক মোড় দেখা গিয়েছে। একদিকে যেমন মানবাধিকার সংগঠন ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচারের আলো দেখেছিল, অন্যদিকে এই প্রয়াণের মাধ্যমে মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পর্বের পরিসমাপ্তি ঘটল।