বাংলা-বিহার সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি! কাশবনে নিয়ে গিয়ে মহিলাকে ধর্ষণ ও গলা কেটে খুন, এলাকায় চরম আতঙ্ক

বাংলা-বিহার সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় ঘটে গেল এক অত্যন্ত মর্মান্তিক, নৃশংস ও শিহরণ জাগানো ঘটনা। ঘাস কাটতে গিয়ে বর্বরোচিত আক্রমণের শিকার হলেন দুই মহিলা। এর মধ্যে একজনকে কাশবনের মধ্যে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করার পর শ্বাসনালি কেটে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, এই পৈশাচিক ঘটনার প্রতিবাদ করায় অপর এক মহিলাকেও হাঁসুয়া দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। এই লোমহর্ষক ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর ও বিহারের আমেদাবাদ সীমানা এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের দৌলতনগর গ্রামের দুই মহিলা বাংলা ও বিহারের সীমান্ত লাগোয়া বিহারের আমেদাবাদ থানার অন্তর্গত গোবিন্দপুর এলাকায় প্রতিদিনের মতো ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই ফাঁকা মাঠের মধ্যে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক তাঁদের পথ আটকে দাঁড়ায়। এরপর তাদের মধ্যে এক মহিলাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে অপর সঙ্গী তার তীব্র প্রতিবাদ জানান। অভিযোগ রয়েছে, তখনই ক্ষিপ্ত হয়ে ওই অভিযুক্ত মহিলাটির ওপর হাঁসুয়া নিয়ে চড়াও হয় এবং রাস্তায় ফেলে তাঁকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে দেয়।
এরপরেই অন্য মহিলাকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি ঘন কাশবনের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে প্রথমে পাশবিক কায়দায় ধর্ষণ করা হয় এবং পরে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে শ্বাসনালি কেটে নৃশংসভাবে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। এদিকে, প্রথম মহিলাটি কোনো রকমে জীবন বাঁচিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় দৌড়ে গ্রামে ফিরে আসেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্ত ঘটনাটি বিস্তারিত জানান। এই লোমহর্ষক খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে শত শত গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং কাশবনের ভেতর থেকে ওই মহিলার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান।
ঘটনার আকস্মিকতায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এবং বিহারের আমেদাবাদ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং আহত মহিলাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে সেই অভিযুক্ত অজ্ঞাতপরিচয় যুবক। দুই থানার পুলিশ যৌথভাবে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে এবং অপরাধীকে ধরার জন্য সম্ভাব্য সমস্ত জায়গা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকাশ্য দিবালোকে এমন নারকীয় হত্যাকাণ্ড এবং সীমান্ত এলাকায় সুরক্ষার অভাব নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ।