‘জম্মু ও কাশ্মীর ভারতেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ!’ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বিস্ফোরক মন্তব্যের পরই চরম কূটনৈতিক সংঘাতে পাক-আমেরিকা

দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে থাকা অননুমোদিত ব্যারিকেড ও বাইরের দিকের নিরাপত্তা বলয় বুধবার সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে দিল ভারত। এর ঠিক তিন দিন আগে ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে বসানো নিরাপত্তা ব্যারিকেড পাকিস্তান সরিয়ে নিয়েছিল। সেই ঘটনার পালটা হিসেবেই ভারতের পক্ষ থেকে এই কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, দুই দেশের সাম্প্রতিক পারস্পরিক নিরাপত্তা পদক্ষেপের খতিয়ানে এই ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এদিকে, জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অত্যন্ত ‘গুরুত্বপূর্ণ অংশ’ হিসেবে প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে কূটনৈতিক মহলে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইসলামাবাদে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর সফরের সময় সার্জিও গোর যে মন্তব্য করেছেন তা সম্পূর্ণ ‘তথ্যগত ভুল’ এবং তাঁরা কোনোভাবেই ওই অঞ্চলকে ভারতের অংশ হিসেবে মেনে নিতে নারাজ।
পাকিস্তানের দাবি, জম্মু ও কাশ্মীর একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিতর্কিত অঞ্চল। এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়া উচিত রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব এবং কাশ্মীরি জনগণের অভ্যন্তরীণ আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী। ইসলামাবাদের মতে, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্য জম্মু ও কাশ্মীর বিরোধের বিষয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের পুরোনো অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রসংঘের সনদের প্রতি তাদের ঘোষিত প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। একই সঙ্গে, পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে মধ্যস্থতা করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুরনো প্রস্তাবের প্রসঙ্গটিও নতুন করে তুলে ধরেছে। তাদের জোরালো দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত আধিকারিকদের প্রকাশ্য বক্তব্য যেন জম্মু ও কাশ্মীরের ‘বিতর্কিত মর্যাদা’র সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনরত সার্জিও গোর বুধবার ঐতিহাসিক শ্রীনগর সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান, “জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং সেই কারণেই প্রথমবারের মতো এখানে এসেছি। জায়গাটি অত্যন্ত সুন্দর এবং এখানে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।” একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির প্রশংসা করেন। কেন্দ্রীয় সরকার ও জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় গৃহীত বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপগুলির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আমেরিকা এই অঞ্চলের জন্য তাদের বলবৎ থাকা ভ্রমণ সতর্কবার্তা বা ট্রাভেল অ্যাডভাইসরি শিথিল করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। গোর আরও যোগ করেন যে তিনি এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট কোনো বড় সরকারি ঘোষণা না করলেও বিষয়টি অবশ্যই আগামী দিনে খতিয়ে দেখবেন।