১০০ বছরের পুরনো স্কুলে দুর্গাপুজো নিয়ে ধুন্ধুমার! প্রধান শিক্ষকের কঠোর সিদ্ধান্তে বিপাকে বালিঘাইয়ের ঐতিহ্যবাহী পুজো

পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় দুর্গাপুজোর মাঠ ব্যবহার করাকে কেন্দ্র করে এক অভাবনীয় ও তীব্র জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী বালিঘাই বিবেকানন্দ ব্যায়ামাগার ক্লাবের উদ্যোগে এবছর ৫১তম দুর্গোৎসবের জমজমাট প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। প্রতি বছরের মতো এবারও বালিঘাই হাইস্কুলের বিশাল খেলার মাঠেই পুজোর প্যান্ডেল ও মেলা বসানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় পুজো কমিটি। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষের লিখিত ও মৌখিক অনুমতি না মেলায় এখন মাঝপথে এসে পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এই সার্বজনীন দুর্গোৎসব।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজো কমিটির সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা মিলে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে গত বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই স্কুল মাঠে পুজো হবে। সেইমতো বালিঘাই হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রীতম প্রসাদ সিনহার কাছে মাঠ ব্যবহারের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়া হয়। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ এই প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দেয় এবং সাফ জানিয়ে দেয় যে বর্তমান পরিস্থিতিতে খেলার মাঠে পুজোর অনুমতি দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
প্রধান শিক্ষক প্রীতম প্রসাদ সিনহা তাঁর এই কঠোর সিদ্ধান্তের সপক্ষে জোরালো যুক্তি দিয়ে জানিয়েছেন যে, শতবর্ষ প্রাচীন এই স্কুলের মূল খেলার মাঠটি একান্তভাবেই ছাত্রছাত্রীদের খেলাধুলা এবং বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক কাজের জন্য সংরক্ষিত। গত বছর ওই পুজো কমিটিকে শর্তসাপেক্ষে মাঠে পুজো করার অনুমতি দেওয়া হলেও আয়োজক সংস্থার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তিনি। প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, পুজোর নামে প্রায় তিন থেকে চার মাস ধরে সম্পূর্ণ মাঠটি ব্লক করে রাখা হয়েছিল। এর ফলে কচিকাঁচারা দীর্ঘকাল মাঠে নামতে পারেনি, যা দেখে প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। ১০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষালয়ের পঠনপাঠন ও খেলাধুলার পরিবেশ বাঁচাতে তিনি এবছর আর মাঠে পুজো বসাতে দিতে নারাজ।
প্রধান শিক্ষকের এই অনড় অবস্থানের পরই বালিঘাইজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ৫১ বছরের পুরনো এই প্রাচীন পুজোর সঙ্গে এলাকার মানুষের গভীর আবেগ ও নস্টালজিয়া জড়িয়ে থাকায় এই সিদ্ধান্তে ফুসছে স্থানীয় বাসিন্দারা। একদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য যে ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে খেলার মাঠ কোনো অবস্থাতেই পুজো বা মেলার জন্য ছাড়া হবে না, অন্যদিকে পুজো কমিটির জেদ আগের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা। দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের জেরে গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও টানটান পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুরো ঘটনা প্রসঙ্গে এগরার বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে পুজো করার অনুমতি দেওয়া বা না দেওয়ার পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে স্কুল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব এক্তিয়ারভুক্ত, এবং এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা সময়মতো জানানো হবে।