রান্নার জাদুকরী মশলা হলুদ নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য! বিজ্ঞান কি সত্যিই এর ঔষধি গুণকে নস্যাৎ করছে?

বাংলাদেশি মাছের ঝোল হোক কিংবা ভারতীয় চিকেন কারি—আমাদের দৈনন্দিন রান্নায় হলুদ এক অপরিহার্য ও সর্বব্যাপী উপাদান। খাবারকে সুস্বাদু ও আকর্ষণীয় রঙ দেওয়ার পাশাপাশি প্রাচীনকাল থেকেই হলুদকে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এক মহৌষধি হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। তবে বিশ্বজুড়ে এর স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত বিশ্বাসের বিপরীতে সম্প্রতি কিছু বিজ্ঞানী ও গবেষক নতুন প্রশ্ন তুলেছেন। দক্ষিণ এশীয় প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করা গবেষক ও পডকাস্টার রাগিনি কাশ্যপ জানাচ্ছেন, পাঞ্জাবি সংস্কৃতির শিকড়ে হলুদ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অসুস্থতা থেকে মুক্তি কিংবা মানসিক শান্তি—সবক্ষেত্রেই হলুদ যেন এক চিরন্তন ভরসার নাম। এশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের রান্না পেরিয়ে বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ক্যারিবীয় অঞ্চল পর্যন্ত এর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাচীন লেখালিখিতেও এর জীবাণুনাশক ও প্রদাহনাশক গুণের উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মে বিয়েসহ নানা উৎসবে উর্বরতা ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে হলুদ ব্যবহারের প্রথা রয়েছে।
এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার প্রচার এবং বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট কোম্পানির জোরালো প্রচারণায় বিশ্ববাজারে হলুদের বাণিজ্যিক চাহিদা আজ আকাশছোঁয়া। বিশেষ করে হলুদে থাকা ‘কারকিউমিন’ নামক যৌগটিকে স্বাস্থ্যকর বলে দাবি করা হয়। তবে এই দাবির পেছনে বৈজ্ঞানিক সত্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার রসায়নবিদ ড. ক্যাথরিন নেলসন। তাঁর মতে, হলুদ দিয়ে কোনো কার্যকরি ওষুধ তৈরি করা বেশ কঠিন, কারণ এর রাসায়নিক গঠন অত্যন্ত প্রতিক্রিয়াশীল এবং এটি শরীরে সহজে শোষিতও হয় না। একই ধরনের হতাশার কথা জানিয়েছেন কানাডার লন্ডন হেলথ সায়েন্সেস সেন্টারের কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক অমিত গার্গ। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত সাম্প্রতিক দুটি বড় ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, অস্ত্রোপচার পরবর্তী কিডনির প্রদাহ রোধ বা কিডনি রোগের অগ্রগতি ঠেকাতে কারকিউমিনের উল্লেখযোগ্য কোনো ইতিবাচক প্রভাব নেই। মূলত মানবদেহে এর কার্যকারিতা প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত ও উচ্চমানের ক্লিনিক্যাল তথ্য এখনও অনুপস্থিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিকভাবে রান্নায় হলুদ খাওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ ও উপভোগ্য হলেও, এর ভেষজ বা রোগ সারানোর ক্ষমতা নিয়ে অতি-উচ্ছ্বসিত প্রচার এবং ব্যয়বহুল সাপ্লিমেন্ট কেনার আগে দুবার ভাবা উচিত।