লাইভ টিভিতে মেজাজ হারালেন দুই ভারতীয় ধারাভাষ্যকার! ধারাভাষ্য বক্সেই প্রকাশ্যে শুরু তীব্র বচসা

গল টেস্টে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাঠের মধ্যকার জমজমাট লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার ধারাভাষ্য বক্সের ভেতরের নাটকীয় পরিস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। প্রথম টেস্টের সরাসরি সম্প্রচার চলাকালীন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার তথা দুই জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মঞ্জরেকর এবং মুরলী কার্তিকের মধ্যে একটি অন-এয়ার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় নেটদুনিয়ায় তীব্র আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল মুরলী কার্তিকের একটি ব্যক্তিগত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। লাইভ সম্প্রচারের মাঝেই মঞ্জরেকরের কথা বলার সময় তাঁর মুখভঙ্গি ও পাউট করা নিয়ে কটাক্ষ করে কার্তিক বলেন, “সবার পক্ষ থেকে একটা অনুরোধ। আপনার পাউট শতাব্দীর সেরা। কিন্তু সেই পাউটের কারণে আপনি কী বলছেন, সেটা ঠিকমতো বোঝা যাচ্ছে না। তাই দয়া করে পাউটটা একটু কমান।”

কার্তিকের এই অপ্রত্যাশিত মন্তব্যে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে তাৎক্ষণিক পাল্টা জবাব দেন সঞ্জয় মঞ্জরেকরও। তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “এটা অত্যন্ত খারাপ মন্তব্য ছিল। ক্যামেরা কি স্প্লিট স্ক্রিন করে অন্যজনের দিকে ঘোরানো যায়? কারণ ওর সঙ্গে কথা বলা অনেক বেশি আনন্দদায়ক এবং ওর মুখটাও অনেক বেশি সুন্দর। আমি শুধু ভাবছি, ‘সুপার্ব, সুপার্ব, সুপার্ব’—নিজেকে আয়নায় দেখার সময় এটাই মুরলী কার্তিকের গলা!” সঙ্গে সঙ্গে এর জবাব দিয়ে কার্তিক বলেন, “আমি কখনও নিজেকে আয়নায় দেখি না। সেটা একমাত্র আপনি করেন। যারা আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনে, আপনার সঙ্গে খেলেছে বা কাজ করেছে, তারা সবাই সেটা ভালোভাবেই জানে।” দুই প্রাক্তন ক্রিকেটারের এই প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ থামেনি এখানেই। একে অপরকে টেক্কা দিতে একের পর এক ব্যক্তিগত আক্রমণ ছুড়ে দেন উভয় পক্ষ। মঞ্জরেকর ফের খোঁচা দিয়ে বলেন, “আয়নায় তাকানোর একটা নির্দিষ্ট কারণ থাকে। তবে আপনার ক্ষেত্রে বুঝতে পারছি, সেই দৃশ্য খুব একটা উৎসাহজনক নয়।” তবে বুঝতে পেরে যে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে, মঞ্জরেকর দ্রুত সংযত হয়ে যোগ করেন, “আমরা দু’জনেই মনে হয় এবার সীমা পেরিয়ে যাচ্ছি। আর সোশ্যাল মিডিয়া তো ইতিমধ্যেই এর ফায়দা তোলার জন্য বসে আছে।”

এদিকে মাঠের খেলায় পঞ্চম দিনে দারুণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। গলে অনুষ্ঠিত এই টেস্ট ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ভারত ৪৬২ রানে অলআউট হওয়ার পর শ্রীলঙ্কা মাত্র ২৮৪ রানে গুটিয়ে যায়, যার ফলে ভারত প্রথম ইনিংসের নিরিখে ১৭৮ রানের বড় লিড পায়। এরপর ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস ১৯৩ রানে শেষ হলে শ্রীলঙ্কার সামনে জয়ের জন্য ৩৭২ রানের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়। চতুর্থ দিনের শেষে ৩৪ ওভারের শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ৮৪ রান। জয়ের জন্য তাদের শেষ দিনে প্রয়োজন ছিল আরও ২৮৮ রান, অর্থাৎ ভারতকে ম্যাচ জিততে নিতে হতো বাকি ছ’টি উইকেট। পঞ্চম দিনের শুরুটা বেশ দৃঢ়তার সঙ্গেই করেছিল শ্রীলঙ্কা। দলীয় রান যখন ৪৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে, ঠিক তখনই পঞ্চম উইকেটে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেন ধনঞ্জয় ডি সিলভা এবং সোনাল দিনুশা। এই জুটিতে মূল্যবান ৯৫ রান যোগ হয় এবং দুজনেই ব্যক্তিগত অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। তবে ধনঞ্জয় আউট হতেই দ্রুত ষষ্ঠ উইকেট হারায় স্বাগতিক দল। এই ম্যাচে বল হাতে ভারতের জয়ের পথ প্রশস্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন মানব সুতার এবং অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা। পাশাপাশি, এই ম্যাচেই টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে ছক্কার সেঞ্চুরি অর্থাৎ ১০০টি ছক্কা হাঁকানোর দুর্দান্ত নজির গড়ে ইতিহাস গড়েছেন মারকাটারি উইকেটকিপার-ব্যাটার ঋষভ পন্থ। তবে গলের খামখেয়ালি আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।