ডুবেছে বিঘার পর বিঘা জমি, ত্রাণ শিবির থেকে কবে বাড়ি ফিরবেন মানুষ? জানুন জেলার নতুন আপডেট

নিম্নচাপের অবিরাম বৃষ্টিতে বেহাল দশা পূর্ব মেদিনীপুর জেলার। টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে। এর জেরে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কৃষি জমি ও ফসলেরও। গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত উদ্ধারের ও সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার হলদিয়া ভবনে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে এই তথ্য তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা সহ জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা এবং বিভিন্ন শিল্প সংস্থার প্রতিনিধিরা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রবল বৃষ্টির জেরে বহু মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং এখনও প্রায় ১৫ হাজার মানুষ বাড়ি ফিরতে না পেরে আশ্রয় শিবিরেই দিন কাটাচ্ছেন। এছাড়া প্রায় ৩২ হাজার বাড়িতে এখনও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা যায়নি। বিশেষ করে সবং ও নারায়ণগড় বিধানসভা এলাকার পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
দুর্গতদের সাহায্যার্থে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করতে কৃষি, উদ্যানপালন, মৎস্য, বিপর্যয় মোকাবিলা এবং সেচ দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মধ্যে ১৫ হাজার ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোর পাশাপাশি, ভেঙে পড়া মাটির বাড়িগুলির জন্য কুড়ি হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া ত্রাণ শিবির ছেড়ে বাড়ি ফেরার সময় প্রতিটি পরিবারকে অন্তত পাঁচ দিনের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।