‘দিমাগি নকশাল’ থেকে সরাসরি রাজনৈতিক দল? মিম-ব্যান্টারের ঝড় তুলে নেটদুনিয়া কাঁপাচ্ছে এই নতুন ট্রেন্ড!

স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহাসিক ভাষণে লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করার পর থেকেই দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও সোশ্যাল মিডিয়া ট্রোলের ঝড় বয়ে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেছিলেন যে, অস্ত্রধারী মাওবাদীদের নির্মূল করা গেলেও সমাজ থেকে ‘দিমাগি নকশাল’ বা নকশাল-মনস্ক মানসিকতাকে সমূলে বিচ্ছিন্ন করার সময় এসে গেছে। এই একটিমাত্র মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক থামার তো দূরে থাক, বরং তা এক নতুন মাত্রা নিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল দুনিয়ায় রাতারাতি আত্মপ্রকাশ করেছে ‘Dimagi Naxal Party’ বা ডিএনজেপি (DNJP)। জেন-জি (Gen Z)-র ভাষা, মেধা, শ্লেষ, ব্যঙ্গ এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদের এক অভিনব মিশ্রণে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মটি অল্প সময়ের মধ্যেই হাজার হাজার ফলোয়ার অর্জন করে নেটদুনিয়ায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
এই অদ্ভুত রাজনৈতিক ও সামাজিক ট্রেন্ডটির পেজে একের পর এক গ্রাফিক্স কার্ড, রিল, কবিতা, কৌতুক এবং ব্যঙ্গাত্মক কমেন্ট পোস্ট করা হচ্ছে। এদের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে একটি অত্যন্ত ভাইরাল পোস্টে লেখা হয়েছে, “When someone says Dimaagi Naxal, all I hear is intellectual baddie!” আবার এক্স (X) হ্যান্ডেলে @DNJP_India ইতিমধ্যেই প্রায় চৌদ্দ হাজার ফলোয়ারের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেছে বলে দাবি করছেন নেটিজেনরা। শুধু সাধারণ ব্যবহারকারীরাই নন, বহু প্রভাবশালী ও নামী ব্যক্তিত্বও এই ট্রেন্ডে শামিল হয়েছেন। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে নিজেকে ‘proud dimagi Naxal’ বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে, প্রখ্যাত অভিনেতা প্রকাশ রাজ একটি রিল তৈরি করে নেটিজেনদের আরও ‘দিমাগি’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনও হাত গুটিয়ে বসে নেই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই বিতর্কের জবাব দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর ওই মন্তব্য সরাসরি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির উদ্দেশ্যে করা হয়নি। তাঁর মতে, ‘দিমাগি নকশাল’ বলতে মূলত এমন কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যাঁরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাওবাদীদের সমর্থন করেন, দেশের সংবিধানকে অস্বীকার করেন, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পাশে দাঁড়ান কিংবা অনুচ্ছেদ ৩৭০ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ভারতের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চক্রান্তকে সমর্থন জানান।
এত কাণ্ডের পর সবথেকে বড় প্রশ্ন হলো, এই ‘Dimagi Naxal Party’-র পেছনে আসলে কারা রয়েছে এবং এদের মূল উদ্দেশ্য কী? এটি কি শুধুই ভার্চুয়াল দুনিয়ার একটি ক্ষণস্থায়ী প্রতিবাদ ও মিম-সংস্কৃতি, নাকি এর অন্তরালে ককরোচ-জনতা-পার্টির মতো কোনো নতুন রাজনৈতিক সংগঠনের অঙ্কুরোদ্গম ঘটছে? এই রহস্যের উত্তর এখনও অধরা। তবে সাধারণ মানুষের কৌতূহল দিন দিন বেড়েই চলেছে।