প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ দখল নিয়ে তুঙ্গে সংঘাত! মেয়ো রোডে কর্মসূচি ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে বিস্ফোরক ফাটল!

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবসকে কেন্দ্র করে শাসক দলের অন্দরের সুপ্ত টানাপোড়েন ফের একবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে। আগামী ২৮ অগাস্ট সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে কলকাতার ব্যস্ততম মেয়ো রোডে সভা করার অনুমতি পাওয়া নিয়ে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতৃত্ব এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিগত বেশ কিছুদিন ধরে চলা এই দ্বন্দ্বে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গেছে।

ঐতিহাসিক একুশে জুলাইয়ের মতো আগামী ২৮ অগস্টের এই বিশেষ দিনটিকে ঘিরেও দুই শিবিরের আলাদা কর্মসূচির জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল নেতৃত্বাধীন এবং কালীঘাটপন্থী শিবির মেয়ো রোডে একটি বিশাল আকৃতির টিএমসিপির প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। অন্যদিকে, ঠিক একই দিনে এবং একই স্থানে মেয়ো রোডে নিজেদের কর্মসূচি পালনের অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী শিবিরও। ফলে একই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দুই পক্ষের কর্মসূচি আয়োজন করা নিয়ে চরম প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।

কালীঘাটপন্থী টিএমসিপি শিবিরের তরফ থেকে জোরালো অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, প্রতিষ্ঠা দিবসের এই সভার আনুষ্ঠানিক অনুমতি চেয়ে গত ২৭ জুলাই কলকাতা পুলিশের কাছে প্রথম চিঠি পাঠানো হয়েছিল। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনা করে গত ৩ অগাস্ট এবং ৭ অগাস্ট পুনরায় পুলিশের কাছে চিঠি দিয়ে অনুমতির বিষয়ে জবাব চাওয়া হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর বা প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পুলিশের এই নীরবতার পরেই বাধ্য হয়ে গত সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের দারস্থ হয়েছে কালীঘাটপন্থী টিএমসিপি অংশটি। জল গড়ায় হাই কোর্ট পর্যন্ত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বিশেষ এজলাসে তাঁদের আইনজীবী পুরো বিষয়টি সবিস্তারে জানান এবং দ্রুত হস্তক্ষেপের আর্জি রাখেন।

অন্যদিকে, এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের পক্ষ থেকেও সাফ জানানো হয়েছে যে, তাঁদের তরফ থেকেও আগামী ২৮ অগস্ট মেয়ো রোডে টিএমসিপির প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের জন্য কলকাতা পুলিশের কাছে যথারীতি অনুমতি চাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই ঐতিহ্যগতভাবে মেয়ো রোডেই টিএমসিপির মূল এবং সর্ববৃহৎ বার্ষিক অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে একই দিনে একই ভেন্যুতে দুই ভিন্ন শিবিরের পক্ষ থেকে কর্মসূচি পালনের অনুমতি চাওয়ায় নতুন করে জোর রাজনৈতিক সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কলকাতা পুলিশ কাকে এই জনসভার অনুমতি প্রদান করে কিংবা এই জটিল পরিস্থিতিতে কলকাতা হাই কোর্ট কী গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র রাজ্য তথা রাজনৈতিক মহল।