বিহারে রক্তে ভাসল মন্দির চত্বর! ভিড়ের চাপে পিষ্ট হয়ে মৃত ৭, ফের প্রশ্নের মুখে দেশের জনতা সুরক্ষা

সোমবার ভোরে বিহারের লক্ষ্মীসরাইয়ের ঐতিহাসিক অশোক ধাম মন্দিরে এক মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় অন্তত ৭ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ১২ জন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত ও আহতদের সিংহভাগই মহিলা। সোমবারে এই পুণ্যলগ্নে মন্দিরে উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ হুড়োহুড়ি শুরু হলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, যা ফের একবার দেশের ধর্মীয় ও জনবহুল স্থানগুলিতে ভিড় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে চরম অব্যবস্থার করুণ চিত্রটিকে প্রকাশ্যে নিয়ে এল।

সাম্প্রতিক অতীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেভাবে একের পর এক মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে চলেছে, তাতে জননিরাপত্তা এক বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব, রাজনৈতিক সমাবেশ ও জনবহুল স্টেশনে ঘটে যাওয়া ১০টি বড় মাপের দুর্ঘটনা গোটা দেশবাসীকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রশাসনের উদাসীনতা এবং অপর্যাপ্ত নিরাপত্তার কারণে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে।

বিপর্যয়ের সেই দীর্ঘ ও কালো তালিকা একনজরে দেখে নেওয়া যাক:
১. ২০২৪ সালের জুলাই মাসে উত্তরপ্রদেশের হাতরাসে একটি বিশাল ধর্মীয় সমাবেশে পদপিষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় ১২১ জনের, যার বেশিরভাগই ছিলেন মহিলা ও শিশু।
২. ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে প্রয়াগরাজে পবিত্র পুণ্যস্নানের বিশেষ দিনে উপচে পড়া ভিড়ের চাপে হুড়োহুড়িতে প্রাণ হারান ৩৭ জন পুণ্যার্থী।
৩. ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেই বৈকুণ্ঠ দ্বাদশীর টোকেন সংগ্রহ করতে গিয়ে বিশৃঙ্খলার জেরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান ৬ জন ভক্ত।
৪. গত বছর ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লি রেলওয়ে স্টেশনে মহাকুম্ভের বিপুল সংখ্যক যাত্রীদের ভিড়ে প্ল্যাটফর্মের মধ্যেই পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
৫. এর ঠিক পরেই মে মাসে গোয়ার বিখ্যাত লাইরাই দেবী মন্দিরের বার্ষিক উৎসবে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পিষ্ট হয়ে ৬ জনের প্রাণহানি হয়।
৬. পরের মাস অর্থাৎ জুনে বেঙ্গালুরুতে আরসিবি-র আইপিএল জয়ের বর্ণাঢ্য উদযাপন চলাকালীন স্টেডিয়ামের বাইরে হুড়োহুড়িতে ১১ জন সমর্থক নিহত হন।
৭. জুলাই মাসে হরিদ্বারের মনসা দেবী মন্দিরের সঙ্কীর্ণ পাহাড়ি রাস্তায় অতিরিক্ত পুণ্যার্থীর চাপে পদপিষ্ট হয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়।
৮. ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তামিলনাড়ুর করুরে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে ৪১ জন সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
৯. নভেম্বর মাসে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলামের মন্দিরে ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত লোক জড়ো হওয়ায় পদপিষ্ট হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়।
১০. আর আজ সোমবারে বিহারের লক্ষ্মীসরাইয়ের অশোক ধাম মন্দিরে সর্বশেষ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ৭ জন প্রাণ হারালেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যে কোনো জনবহুল জমায়েতে সঠিক ও কঠোর পরিকল্পনা এবং সুনির্দিষ্ট ভিড় নিয়ন্ত্রণবিধি বা ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট প্রোটোকল কার্যকর না থাকলে এ ধরনের বিপর্যয় এড়ানো অসম্ভব। সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষার্থে প্রশাসনকে আরও অনেক বেশি কঠোর ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty