ইউজিসি-নেট পরীক্ষার তিনটি বিষয় বাতিল! এনটিএর ভুলেই কি চরম বিপাকে দেশের লাখ লাখ পরীক্ষার্থী?

একের পর এক সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ঘিরে তৈরি হওয়া অন্তহীন বিতর্ক যেন থামার নামই নিচ্ছে না। আর এই প্রশাসনিক অব্যবস্থার জেরে বারবার নতুন করে অনিশ্চিত পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে দেশের মেধাবী পড়ুয়াদের। এবার জাতীয় স্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ইউজিসি-নেট (UGC-NET)-এর তিনটি অত্যন্ত জনপ্রিয় বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল করে তা পুনরায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আর এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই কেন্দ্রীয় সরকার তথা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ (NTA)-র বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থাকে নিশানা করে তিনি কড়া ভাষায় অভিযোগ করেছেন যে, কর্তৃপক্ষের ভুল ও গাফিলতির কারণে অহেতুক চরম শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে দেশের লাখ লাখ নিরপরাধ পরীক্ষার্থীকে।

জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা বা এনটিএ সূত্রে জানানো হয়েছে যে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউজিসি-নেট পরীক্ষার ইংরেজি, কমার্স এবং সমাজবিজ্ঞান (Sociology)—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রশ্নপত্রে বেশ কিছু গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়েছিল। এই অভিযোগগুলি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখার জন্য একটি বিশেষ বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার ভিত্তিতেই এই তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল করে তা পুনরায় আয়োজন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একটি তীব্র আক্রমণাত্মক পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি একহাত নেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তিনি ক্ষোভের সুরে লেখেন, “মোদীজি, আপনার নিয়ন্ত্রিত এনটিএ ঠিক কী কাণ্ড ঘটিয়েছে, একবার তা নিজে চোখে দেখুন।” তাঁর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, দীর্ঘ বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হাজার হাজার পড়ুয়াকে এখন ফের শূন্য থেকে সেই একই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। শুধু তাই নয়, নতুন করে পরীক্ষার ফর্ম পূরণ করা, অতিরিক্ত পরীক্ষার ফি জমা দেওয়া থেকে শুরু করে বহু দূর-দূরান্তের কেন্দ্রে যাতায়াতের বিরামহীন ঝক্কি—সবকিছুই এই তরুণ প্রজন্মকে আবার নতুন করে সহ্য করতে হচ্ছে।

রাহুল গান্ধীর দ্ব্যর্থহীন ভাষায়, “ভুল বা ত্রুটি করে এনটিএ, অথচ তার খেসারত বা শাস্তি ভোগ করতে হয় দেশের সাধারণ পড়ুয়াদের।” তাঁর জোরালো দাবি, পরীক্ষার্থীরা কোনোভাবেই এই প্রশাসনিক গাফিলতি বা ত্রুটির জন্য দায়ী নন। তা সত্ত্বেও তাঁদের কাঁধে অতিরিক্ত মানসিক চাপ চাপিয়ে পুনরায় পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ইউজিসি-নেট পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার প্রায় দুই মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর এনটিএ হঠাৎ করেই তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা বাতিলের এই অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। নতুন ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ইংরেজি ও কমার্স বিষয়ের পরীক্ষা আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এবং সমাজতত্ত্ব বিষয়ের পরীক্ষা ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। তবে পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে এনটিএ জানিয়েছে যে, এই পুনঃরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না।

শুধু পরীক্ষাকেন্দ্রিক এই প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা নয়, বরং দেশের সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা এক গভীর কাঠামোগত সমস্যায় জর্জরিত। পড়াশোনার নামে তরুণ প্রজন্মের কাছ থেকে শুধু অর্থ, মূল্যবান সময় এবং মানসিক শক্তিই শুষে নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যৎ বা উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ মিলছে না। পাশাপাশি তাঁর বিস্ফোরক প্রশ্ন, পরীক্ষার আগে কি তবে প্রশ্নপত্র কোনোভাবে ফাঁস বা আপস করা হয়েছিল? এই মৌলিক প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক বা স্পষ্ট উত্তর এখনও এনটিএ দিতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পরীক্ষায় লাগাতার অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। NEET সহ দেশের অন্যান্য নিয়োগ ও প্রবেশিকা পরীক্ষার বিতর্ক টেনে তিনি স্পষ্ট জানান, শুধু পদত্যাগ বা সাময়িক বরখাস্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়, বরং NTA-র শীর্ষ নেতৃত্বকে এবার স্বচ্ছতার সঙ্গে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।