অবসরের ঠিক দোরগোড়ায় লজ্জা! ৪ বছরের শিশুকন্যাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার ৫৯ বছরের CRPF জওয়ান

অবসর গ্রহণের প্রাক্কালেই চরম লজ্জাজনক ঘটনায় জড়িয়ে পড়লেন কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) এক প্রবীণ জওয়ান। আর মাত্র কয়েক মাস পরেই তাঁর সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার কথা ছিল। ঠিক তার আগেই চার বছরের এক অবুঝ শিশুকন্যাকে পাশবিক কায়দায় যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রদেশের সিধি জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য এবং ক্ষোভের ঝড় উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের সিধি জেলার মাজহৌলি থানা এলাকার একটি গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার এই পৈশাচিক ঘটনাটি ঘটে। তবে ঘটনার বীভৎসতা এবং সংবেদনশীলতার কারণে বিষয়টি প্রথমে গোপন থাকলেও রবিবার তা প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ অভিযুক্ত জওয়ানকে দ্রুত গ্রেফতার করে আদালতে তুললে বিচারক তাঁকে সোজা জেলা সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মাজহৌলি থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) বিশাল শর্মা সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, গত শনিবার অর্থাৎ ১৫ অগস্ট রাতে নির্যাতিত শিশুর মা থানায় এসে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ দ্রুত নড়েচড়ে বসে। পুলিশে দায়ের করা অভিযোগে অত্যন্ত মর্মান্তিক বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। মাত্র ৩ বছর ১১ মাস বয়সের ওই শিশুকন্যাটি যেভাবে তার মায়ের কাছে সমস্ত ঘটনাটি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বর্ণনা করেছিল, তা শুনলে যে কারও রক্ত হিম হয়ে যাবে।

অভিযোগে শিশুটির মা উল্লেখ করেন, শুক্রবার রাতে ছোট্ট মেয়েটি বাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘক্ষণ ধরে সে ঘরে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে হন্যে হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। দীর্ঘক্ষণ পর যখন শিশুটি বাড়ির দিকে ফিরে আসে, তখন সে অঝোরে কাঁদছিল এবং তার শরীরের গোপনাঙ্গ থেকে ক্রমাগত রক্তপাত হচ্ছিল। পরিবারের লোকজন এবং মায়ের চোখের সামনে অবুঝ শিশুটি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে জানায় যে, এক প্রতিবেশী কাকা তার মুখ চেপে ধরে এই জঘন্য কায়দায় যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। এই নৃশংস কথা শোনার পরেই পরিবারের সদস্যরা আকাশ থেকে পড়েন। মা তাৎক্ষণিকভাবে সমস্ত ঘটনা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জানান এবং ঘটনার ঠিক পরের দিন অর্থাৎ শনিবার সকালে থানায় গিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া আইনি অভিযোগ দায়ের করেন।

এসএইচও বিশাল শর্মা আরও জানান যে, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কঠোর পকসো (POCSO) আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গুরুতর ধারায় এফআইআর নম্বর ৫৬৭/২৬-এর অধীনে মামলা রুজু করা হয়। সংগৃহীত জোরালো প্রমাণ এবং প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতেই অভিযুক্ত জওয়ানকে দ্রুত গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক উভয় পক্ষের শুনানি শেষে অভিযুক্তকে সিধি জেলা সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত সূত্রে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযুক্ত জওয়ানের বর্তমান বয়স ৫৯ বছর এবং আগামী বছরেই তাঁর কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই এমন ঘৃণ্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় তাঁর চাকরিজীবন এবং সম্মান ধুলোয় মিশে গেল। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ওই অভিযুক্ত জওয়ানের বিরুদ্ধে অতীতেও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ উঠেছিল। এই পুনরাবৃত্তিমূলক অপরাধপ্রবণতা এবং তার চরম নৈতিক স্খলন নিয়ে বর্তমানে এলাকায় তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মামলার সমস্ত দিক অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে যাতে দোষী জওয়ানের কঠোরতম আইনি সাজা নিশ্চিত করা যায়।