শ্রাবণ সোমবারেই রক্তে ভাসল পুণ্যভূমি! মন্দিরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু ৭ পুণ্যার্থীর, আহত অনেকে!

শ্রাবণ মাসের পবিত্র সোমবার উপলক্ষে ভক্তদের ভিড়ে মুখরিত মন্দিরে নেমে এল এক গভীর শোকের ছায়া। বিহারের লখিসরাই জেলার ঐতিহ্যবাহী ইন্দ্র দমনেশ্বর মহাদেব মন্দিরে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ৭ জন পুণ্যার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৬ জন। শ্রাবণের বিশেষ সোমবারে দেবাদিদেবের পুজো দিতে এদিন ভোর থেকেই মন্দিরে উপচে পড়েছিল ভক্তদের ভিড়। হঠাৎই মন্দির চত্বরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও হাড়হিম করা পরিস্থিতি তৈরি হয়। একের পর এক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুণ্যার্থীদের মধ্যে প্রাণভয়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। এই ছোটাছুটির মাঝে মন্দিরের অস্থায়ী ব্যারিকেড ভেঙে গিয়ে পদদলিত হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যার জেরে বেশ কয়েকজন ভক্ত গুরুতর জখম হয়েছেন। এদিকে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, যে বিদ্যুৎ স্তম্ভ থেকে এই বিপত্তি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে, তাতে সেভাবে কোনো সরাসরি বিদ্যুৎসংযোগ ছিল না। পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
অন্যদিকে, ঠিক একই দিনে অপর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠল বাংলার অন্যতম বিখ্যাত ধর্মীয় তীর্থক্ষেত্র তারাপীঠ। শ্রাবণ মাসের এই পবিত্র সোমবারে পুজো দেওয়ার উদ্দেশ্যে বহু দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্ত ও পর্যটকরা একটি স্থানীয় হোটেলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আনন্দঘন মুহূর্ত নিমেষেই বিষাদে বদলে যায় যখন ভোররাতের দিকে ওই হোটেলের রিসেপশন এলাকায় আচমকা ভয়াবহ আগুন লেগে যায়। গভীর রাতে হোটেলের বেশিরভাগ আবাসিক যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই শর্ট সার্কিট থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে দমকলের প্রাথমিক অনুমান। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়ায় পুরো হোটেল চত্বর ঢেকে যায়, যার ফলে আবাসিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
যদিও খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়, তবে এর মধ্যেই বড়সড় ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। হোটেল থেকে বহু মানুষকে উদ্ধার করা হলেও, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে অনেক পরিবারের লোকজনই তাঁদের আত্মীয়-পরিজনদের খুঁজে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন। দমকল বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে এও জানা গিয়েছে যে, হোটেলটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল তা নয়, কিন্তু বিপদের সময় হোটেলের পিছনের জরুরি গেটে তালা বন্ধ থাকার কারণে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং আতঙ্ক আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। এক রাতেই জোড়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।