চোখে ঝাপসা চিকিৎসার বাধা! সুপ্রিম কোর্টের ছাড়পত্র পেতেই এবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের কোপে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?

চিকিৎসার জন্য মার্কিন মুলুকে যাওয়ার অনুমতি মিলতেই বড়সড় আইনি বাধার মুখে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পুলিশ কর্তৃক ফ্রিজ করার পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।

গত সোমবার দেশের শীর্ষ আদালত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিন সপ্তাহের জন্য বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করানোর অনুমতি প্রদান করে। আদালতের রায়ে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল যে, তাঁর বিদেশযাত্রার পথে যেন কোনও ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করা হয়। এর আগে কলকাতা হাইকোর্টে বিদেশযাত্রার অনুমতি চেয়ে করা তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছিল। এরপর গত ৭ অগাস্ট গভীর রাতে সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হন তিনি এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিদেশ যাওয়ার ছাড়পত্র মেলে।

কিন্তু এত কাঠখড় পুড়িয়েও বিদেশ যাত্রার ঠিক প্রাক্কালে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দিয়েছে। এর ফলে চিকিৎসার জন্য বিদেশ ভ্রমণ এবং দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন রীতিমতো সমস্যার মুখে পড়েছে।

সোমবার এই সংক্রান্ত মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য আইনি বিধানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর প্রধান প্রশ্ন ছিল, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১০৭ ধারা যথাযথভাবে প্রয়োগ না করেই কীভাবে পুলিশ কোনও ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে পারে? ওই নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী, পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থাকে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন জানাতে হয়। এখানে সেই প্রক্রিয়া মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এছাড়া ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকেও অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সুনির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

বিচারপতি কৃষ্ণ রাও শুনানির শুরুতে জানতে চান যে, এই বিষয়ের সঙ্গে কোনও চলমান তদন্তের যোগ রয়েছে কি না। জবাবে আইনজীবীরা স্পষ্ট জানান যে, তাঁদের মক্কেল আদালতের প্রতিটি নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলছেন এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার মতো কঠোর পদক্ষেপের সঙ্গে তদন্তের সহযোগিতার কোনো বাস্তব বা আইনি সম্পর্ক থাকতে পারে না। উভয় পক্ষের সওয়াল শোনার পর আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, মামলার অন্য পক্ষকেও দ্রুত নোটিস পাঠানো হোক। আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে।