দেড় দশকের চেনা ছবি অতীত! স্বাধীনতা দিবসের দিনে চার দেওয়ালের অন্দরে কেন বন্দি থাকলেন মমতা?

গত দেড় দশক ধরে ১৫ অগস্ট মানেই ছিল এক ফুরসতহীন ব্যস্ততা ও রাজনৈতিক উন্মাদনা। ১৪ অগস্টের মধ্যরাতের হাজরা মোড় থেকে শুরু করে পরের দিন রাজপথের একের পর এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাঁর সরব উপস্থিতি স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে সবসময় এক আলাদা মাত্রা যোগ করত। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবারের স্বাধীনতা দিবসে একেবারে বিপরীত চিত্র ধরা পড়ল। দিনভর কোনও ঘোষিত জনসমাবেশ বা প্রকাশ্যে দেখা মিলল না বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

ঘরের কোণে কাটল দিন, কর্মীদেরও ছুটি

এদিন স্বাধীনতা দিবসের কোনো মঞ্চে গিয়ে জাতীয় পতাকাও তোলেননি তিনি। বরং কালীঘাটের বাসভবনের চার দেওয়ালের মধ্যেই কাটল তাঁর এবারের স্বাধীনতা দিবস। সূত্রের খবর, ১৫ অগস্ট উপলক্ষে কালীঘাটের দলীয় কার্যালয়ের সমস্ত কর্মীদের দু’দিনের ছুটি দিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। ফলে ছুটির মেজাজেই কাটছে উইকেন্ড। নিজের বাসভবনে তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা না গেলেও, দিনভর তাঁর উপস্থিতি সীমাবদ্ধ ছিল কেবল সোশ্যাল মিডিয়ার পেজেই।

ভাঙল হাজরা মোড়ের চিরাচরিত প্রথা

বিরোধী রাজনীতিতে থাকার সময় থেকেই প্রতি বছর মধ্যরাতে প্রাক-স্বাধীনতা উৎসব পালনের রেওয়াজ তৈরি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাজরা মোড়ে তাঁর সেই ‘ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট’ কর্মসূচি রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চিত ছিল। তবে এবার সেখানে দলীয় ব্যানারে কোনও অনুষ্ঠান হয়নি। যদিও শুক্রবার মধ্যরাতে হাজরায় একটি সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে জাতীয় পতাকা তোলা হয় এবং সেখানে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ও লক্ষ্য করা যায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, প্রশাসনিক বা পুলিশি জটিলতা এড়াতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছিল। সশরীরে না থাকলেও এই উদ্যোগকে তিনি সমর্থন জানিয়েছেন বলেই খবর।

ডিজিটাল মাধ্যমেই শুভেচ্ছা বার্তা

মাঠে-ময়দানে দেখা না গেলেও ডিজিটাল মাধ্যমে নিজের সক্রিয়তা বজায় রেখেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। শুক্রবার মধ্যরাতেই সোশ্যাল মিডিয়া পেজে জাতীয় পতাকার ছবি পোস্ট করে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। এরপর শনিবার সকালেও আরও একটি বার্তা দেন। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে তপসিয়া ও মেট্রোপলিটনের দলীয় কার্যালয়ে যখন দোলা সেন ও কুণাল ঘোষের মতো নেতারা পতাকা তুলছেন, তখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এমন ঘরবন্দি থাকা এবং জনসমক্ষে না আসার কৌশল রাজনৈতিক দিক থেকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।