রাজ্যের সরকার ১০০ দিন পেরোতেই ফের বঙ্গ সফরে অমিত শাহ! পাহাড়েও কি বড় চমক?

রাজ্যের বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হতে চলেছে। আর এই বিশেষ উপলক্ষকে সামনে রেখেই আগামী ২০ অগস্ট তিনদিনের রাজ্য সফরে আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপি সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, সরকারের এই মাইলফলক উদযাপনের পাশাপাশি একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে পারেন তিনি।
চলতি বছরের গত ৪ মে রাজ্যে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলেছে। আগামী ১৯ অগস্ট বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ১০০ দিন পূর্ণ করতে চলেছে। সেই উপলক্ষেই বেশ কয়েকটি সরকারি ও দলীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেগুলিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন অমিত শাহ।
দলীয় সূত্রে খবর, ২০ অগস্ট রাজ্যে পা রেখে টানা তিনদিন অত্যন্ত ব্যস্ত কর্মসূচি পালন করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ২১ ও ২২ অগস্ট রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তা এবং দলের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি কতটা হয়েছে, তা এই বৈঠকে খতিয়ে দেখবেন তিনি। পাশাপাশি, কাজের গতিপ্রকৃতিতে কোথাও কোনও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও তিনি খোঁজখবর নেবেন।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই সফরকালে তিনি নবান্নে গিয়েও প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নিতে পারেন। এ ছাড়াও বঙ্গ বিজেপির কোর কমিটি এবং রাজ্য কমিটির সঙ্গেও তাঁর বিশেষ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২২ অগস্ট শিলিগুড়িতে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও তাঁর সঙ্গে থাকার কথা রয়েছে। শিলিগু্রির কাওয়াখালিতে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং নতুন উদ্যোগগুলি তুলে ধরা হবে। এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠানেও তাঁর উপস্থিত থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা এবং রাজ্যসভার সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খুব শীঘ্রই পাহাড় সফরে আসতে পারেন। ফলে এবারের সফরে তিনি পাহাড়ে যান কি না, সেদিকেও রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে। উল্লেখ্য, গত মাসেই তিনদিনের সফরে রাজ্যে এসে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে একাধিক প্রশাসনিক ও দলীয় বৈঠক করেছিলেন অমিত শাহ। এবারের এই নতুন সফরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক কাজ কতটা এগোলো, সেই পর্যালোচনাই মূল ফোকাস থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।