পার্লার নয়, এবার বাড়িতেই পারফেক্ট ওয়াক্সিং! কোন অংশের জন্য কোন মোম ব্যবহার করা উচিত জানেন কি?

অবাঞ্ছিত লোম দূর করার জন্য ওয়াক্সিং অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি, যা সাধারণ শেভিংয়ের তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী ফলাফল প্রদান করে। তবে পার্লারের বদলে বাড়িতে ওয়াক্সিং করার সিদ্ধান্ত নিলে সঠিক ওয়াক্স নির্বাচন, ত্বক প্রস্তুত করা এবং সঠিক কৌশল অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। আমেরিকান একাডেমি অফ ডার্মাটোলজির মতে, ওয়াক্সিংয়ের পর ত্বক সাময়িকভাবে লাল বা সংবেদনশীল হতে পারে এবং অতিরিক্ত গরম ওয়াক্স ব্যবহারের ফলে ত্বক পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তাই ঘরে বসে ওয়াক্সিং করার আগে প্রতিটি খুঁটিনাটি জেনে নেওয়া আবশ্যক।
শরীরের বিভিন্ন অংশের ত্বকের ঘনত্ব এবং সংবেদনশীলতা আলাদা হয়ে থাকে, তাই সব জায়গায় একই ধরনের ওয়াক্স ব্যবহার করা যায় না। হাত এবং পায়ের মতো শরীরের বড় অংশগুলোর জন্য স্ট্রিপ ওয়াক্স বা সফট ওয়াক্স ব্যবহার করা সবচেয়ে উপযোগী। লোম যদি খুব ঘন এবং পুরু হয়, তবে হার্ড ওয়াক্সও একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে। সফট ওয়াক্স সাধারণত একটি পাতলা স্তর হিসেবে লাগিয়ে স্ট্রিপের সাহায্যে তুলে ফেলা হয়, আর হার্ড ওয়াক্স নিজে থেকেই শুকিয়ে যাওয়ার পর কোনো স্ট্রিপ ছাড়াই সহজেই তুলে ফেলা যায়।
বগলের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এখানকার লোম সাধারণত কিছুটা মোটা প্রকৃতির হয়। ছোট এবং সংবেদনশীল এই জায়গার জন্য হার্ড ওয়াক্স ব্যবহার করা সুবিধাজনক, তবে বাড়িতে প্রথমবারের মতো এটি প্রয়োগ করার আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট এবং তাপমাত্রা পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। মুখ এবং উপরের ঠোঁটের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই এখানে অতিরিক্ত গরম মোম ব্যবহার করা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকা প্রয়োজন। আপনি যদি ত্বকের যত্নে রেটিনল বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কোনো রেটিনয়েড ক্রিম ব্যবহার করে থাকেন, তবে ওয়াক্সিং করার আগে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা বাধ্যতামূলক। আমেরিকান একাডেমি অফ ডার্মাটোলজির পরামর্শ অনুযায়ী, ফেসিয়াল ওয়াক্সিং করার কমপক্ষে ২ থেকে ৫ দিন আগে রেটিনল এবং রেটিনয়েড ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা উচিত। বিকিনি লাইনের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চলের ক্ষেত্রে বাড়িতে চেষ্টা না করে কোনো পেশাদার বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে ব্রাজিলিয়ান ওয়াক্স করানোই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
বাড়িতে নিরাপদে ওয়াক্সিং করার জন্য প্রথমে একটি মৃদু ক্লিনজার দিয়ে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে শুকিয়ে নেওয়া জরুরি। লোমের দৈর্ঘ্য যখন প্রায় এক-চতুর্থাংশ থেকে তিন-চতুর্থাংশ ইঞ্চি হয়, তখন ওয়াক্সিং করার আদর্শ সময় হিসেবে ধরা হয়। চুল যদি বেশি লম্বা হয়, তবে ওয়াক্স করার আগে তা কিছুটা ছেঁটে ছোট করে নেওয়া ভালো। প্যাকেটের নির্দিষ্ট নির্দেশাবলী অনুসরণ করে মোমটি গরম করুন এবং ত্বকে লাগানোর পূর্বে কব্জির ভেতরের অংশে সামান্য লাগিয়ে তাপমাত্রা সঠিকভাবে পরীক্ষা করে নিন। যে দিকে লোম প্রাকৃতিকভাবে গজায়, ঠিক সেই দিকেই মোমের স্তরটি লাগাতে হবে। এরপর এক হাত দিয়ে ত্বক টানটান করে ধরে স্ট্রিপটি দৃঢ়ভাবে আটকে নিন এবং অন্য হাত দিয়ে লোম গজানোর বিপরীত দিকে দ্রুত গতিতে স্ট্রিপটি টেনে উঠিয়ে ফেলুন।
রুক্ষ চুল এবং ইনগ্রোন হেয়ারের সমস্যা প্রতিরোধ করার জন্য ওয়াক্সিংয়ের পর কিছু বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সাধারণত মোটা, কোঁকড়া বা ঢেউখেলানো চুলে ইনগ্রোন হেয়ার হওয়ার প্রবণতা অনেকটাই বেশি থাকে। ওয়াক্সিং করার পর ত্বকে জ্বালা ভাব দূর করতে ঠান্ডা সেঁক দিন, সঙ্গে সঙ্গে গরম জলে স্নান করা থেকে বিরত থাকুন এবং কিছু সময়ের জন্য আরামদায়ক ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করুন। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা অত্যন্ত উপকারী। যদি কখনো লোমকূপের ভেতরে লোম ঢুকে যায়, তবে সেখানে কখনোই চুলকাবেন না বা জোর করে তা বের করার চেষ্টা করবেন না। এই পরিস্থিতিতে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য গরম সেঁক দিলে দারুণ আরাম পাওয়া যায় এবং প্রয়োজনে হালকা এক্সফোলিয়েশন সাহায্য করতে পারে, তবে কখনোই ত্বকে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করা উচিত নয়।