লালকেল্লার অনুষ্ঠান বয়কট রাহুলের! আসন বিতর্ক এড়িয়ে কি ফের দূরত্ব বজায় রাখল কংগ্রেস?

দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহাসিক লালকেল্লার প্রাঙ্গণে আয়োজিত প্রধান সরকারি অনুষ্ঠান থেকে আবারও দূরত্ব বজায় রাখল প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা তথা দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে দুজনেই এদিনের এই রাষ্ট্রীয় উৎসবে অনুপস্থিত ছিলেন। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো এই শীর্ষ দুই নেতার লালকেল্লার অনুষ্ঠান বয়কট করার ঘটনা ভারতীয় রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অনুষ্ঠানের আয়োজক ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে প্রটোকল মেনে এবং মন্ত্রিপরিষদের পদমর্যাদা অনুসারে তাঁদের জন্য উপযুক্ত ও নির্ধারিত আসনেই বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তাঁদের এই অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অনীহার নেপথ্যে রয়েছে বিগত ২০২৪ সালের স্বাধীনতা দিবসের একটি অপ্রীতিকর ঘটনা। সেবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে প্রটোকল ভেঙে পঞ্চম সারিতে আসন বরাদ্দ করা হয়েছিল। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সে সময় অভিযোগ করা হয়েছিল যে পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত বিরোধী দলনেতাকে এভাবে পিছনের সারিতে বসিয়ে সরকার সাংবিধানিক পদের অপমান করেছে। যদিও এর জবাবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছিল যে অলিম্পিক পদকজয়ী কৃতি ক্রীড়াবিদদের প্রথম সারিতে বিশেষ সম্মান জানানোর জন্যই আসন বিন্যাসে এই পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তবে সেই ক্ষোভ এবং অসন্তোষের জেরে গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালেও রাহুল গান্ধী লালকেল্লার অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। চলতি বছরেও সেই একই ধারায় শীর্ষ নেতৃত্ব অনুষ্ঠান থেকে নিজেদের দূরে রাখলেন। অন্যদিকে, এদিন লালকেল্লার প্রাকার থেকে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাম না করে দেশের কিছু স্বার্থান্বেষী শক্তির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, দেশের মঙ্গল ও প্রগতি যারা সহ্য করতে পারে না, তাদের চরম হতাশা থেকেই এক বিকৃত মানসিকতার জন্ম হয়, যা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের ধ্বংস কামনা করে। পাশাপাশি, নারীর ক্ষমতায়ন ও লোকসভা-বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি রাজনৈতিক দলগুলিকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। এই অনুষ্ঠান ঘিরে একদিকে যখন দেশজুড়ে দেশপ্রেমের জোয়ার বইছে, ঠিক তখনই বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতাদের এই দুই বছরব্যাপী অনুপস্থিতি এবং শাসক দলের আক্রমণ রাজনৈতিক ময়দানকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলেছে। এ বিষয়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না মিললেও আগামী দিনে এই নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।