লাল কেল্লায় মোদির ঐতিহাসিক হুঙ্কার! ভারতের নিজস্ব ফাইটার জেট ইঞ্জিন তৈরিতে কোন বিরাট চমক?

স্বাধীনতা দিবসের পবিত্র সকালে দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লার প্রাকার থেকে ভারতের প্রতিরক্ষার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের তরুণ বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী এবং গবেষকদের সরাসরি আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, ভারতের আকাশসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবার যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিনও সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সাহসী ঘোষণা দেশের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব মাইলফলক হয়ে উঠেছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী গত ১২ বছরে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির একটি স্পষ্ট ও জোরালো চিত্র তুলে ধরে জানান যে, ভারত আজ শুধু কথার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়, বরং বাস্তব কাজের মাধ্যমে ফল দেখিয়ে দিতে জানে। পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি জানান যে, বিগত এক দশকে দেশের ডিফেন্স প্রোডাকশন বা প্রতিরক্ষা উৎপাদন প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি খাদির উৎপাদন প্রায় পাঁচ গুণ, ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং সাত গুণ, আধুনিক রেলওয়ে কোচের উৎপাদন একুশ গুণ এবং মোবাইল ফোনের উৎপাদন প্রায় তেত্রিশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, ডিজিটাল লেনদেন একশ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে নল দিয়ে জল সরবরাহ, গ্যাস সংযোগ এবং বিনামূল্যে পাকা বাড়ি নির্মাণের কাজও রেকর্ড গতিতে এগিয়ে চলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্বে একটি পরমাণু বোমা তৈরি করা যতটা না কঠিন, তার চেয়েও বহু গুণ বেশি জটিল হলো একটি শক্তিশালী ফাইটার জেট ইঞ্জিন তৈরি করা। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের মতো মাত্র গুটিকয়েক দেশের কাছেই সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির জেট ইঞ্জিন তৈরির সক্ষমতা রয়েছে। এমনকি দশকের পর দশক চেষ্টা করেও চীন এখনও এতে পুরোপুরি সফল হতে পারেনি। একটি আধুনিক ফাইটার জেট ইঞ্জিনের অভ্যন্তরে তাপমাত্রা প্রায় ১৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি পৌঁছে যায়, যা সাধারণ স্টিলকে নিমেষেই গলিয়ে দিতে পারে। এর জন্য সিঙ্গেল ক্রিস্টাল ব্লেড এবং সুপার অ্যালয়ের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদি যখন লাল কেল্লা থেকে নিজের তৈরি ইঞ্জিনের কথা বলেন, তখন তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল এই ধরনের অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ভারতেই গড়ে তোলা।
বর্তমানে ভারতের গর্ব ‘তেজস’ যুদ্ধবিমান আকাশে উড়লেও তার ইঞ্জিনটি মূলত মার্কিন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দিনে তেজস মার্ক-২ বা এএমসিএ (AMCA) যুদ্ধবিমানের হৃদপিণ্ড অর্থাৎ ইঞ্জিনটিও সম্পূর্ণ ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ হবে। এর পাশাপাশি তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে এক আবেগঘন বার্তা দিয়ে বলেন যে, ভারতের সাধারণ মানুষের ঘামে তৈরি এবং এ দেশের মাটির গন্ধযুক্ত পণ্যই যেন অগ্রাধিকার পায়। এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে একদিকে যেমন হাজার হাজার উচ্চপ্রযুক্তির কর্মসংস্থান তৈরি হবে, অন্যদিকে তেমনি রক্ষণাবেক্ষণ ও আমদানির পেছনে খরচ হওয়া কোটি কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রাক্কালে ভারতের এই আত্মনির্ভরশীলতার সংকল্প ভবিষ্যতে দেশকে এক অজেয় শক্তিতে পরিণত করবে।