‘কী কাপুরুষ!’ পেজ অচল করে দেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা, কাঠগড়ায় কে?

ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের সকালে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সাক্ষী হলো রাজনৈতিক ও সামাজিক মাধ্যম। এদিন সকালে জানা যায় যে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজটি হঠাৎ করেই অচল বা ‘লক’ করে দেওয়া হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (পূর্বতন টুইটার)-এ নিজেই জানিয়েছেন দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। সরাসরি কাউকে নাম না করে অভিজিৎ দিপকে এই ঘটনার পেছনে থাকা ব্যক্তিদের ‘কাপুরুষ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। স্বাধীনতা দিবসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে পেজ হ্যাক হওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ সিজেপি নেতৃত্ব। এক্স হ্যান্ডেলে অভিজিৎ দিপকে যন্তর মন্তরে ছাত্রদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের একটি ছবি পোস্ট করেন। সেই ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “এই ছবি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পেতে আমাদের এখনও অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।” পরে আরও একটি টুইটে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “ওরা ককরোচ জনতা পার্টির ইনস্টাগ্রামের অফিসিয়াল পেজটি সরিয়ে দিয়েছে বা অচল করে দিয়েছে। কী কাপুরুষের মতো কাজ!”
তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বাধার মুখে পড়েও দমে যাননি সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। স্বাধীনতা দিবসের দিনটি তিনি বেছে নিয়েছেন এক মহৎ উদ্যোগের জন্য। এদিন তিনি তাঁর নিজ গ্রামে ফিরে গিয়েছেন এবং সেখান থেকেই শুরু করছেন এক বিশেষ কর্মসূচি— ‘স্কুল বাঁচাও’। এই অভিযানের লক্ষ্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে দিপকে জানান, সারা দেশের হাজার হাজার এমন স্কুল রয়েছে যেগুলোর ন্যূনতম পরিকাঠামো নেই। তারা সরকার এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে সরাসরি দাবি তুলবেন যেন শিক্ষার পরিবেশ ঠিক করা হয়। ছাত্রছাত্রীদের জন্য পানীয় জল, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার এবং মানসম্মত পাঠ্যক্রম নিশ্চিত করা সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব।
এই কর্মসূচিকে বাস্তবায়িত করতে সিজেপি ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করেছে। এই দলগুলি নিয়মিত স্কুল পরিদর্শন করবে এবং পরিকাঠামোগত খামতিগুলো চিহ্নিত করবে। এরপর সেই তালিকা স্থানীয় প্রশাসন এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে, যাতে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা যায়। শনিবার স্বাধীনতা দিবসের দিনেই দিপকে মহারাষ্ট্রে তাঁর গ্রামের স্কুলে গিয়ে এই কর্মসূচির সূচনা করবেন। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যাতে তৃণমূল স্তর থেকে শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সমন্বয় তৈরি করা যায়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিজিটাল স্ট্রাইকের শিকার হয়েও অভিজিৎ দিপকের এই গঠনমূলক উদ্যোগ বর্তমানে নেটপাড়ায় বেশ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষার মতো জরুরি বিষয়ে তাঁর এই কর্মসূচি কতখানি প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।