এই দশকেই পাঁচ নতুন পারমাণবিক চুল্লি! শক্তি সুরক্ষায় লালকেল্লা থেকে ঐতিহাসিক ঘোষণা মোদীর

দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহাসিক উদযাপনের অঙ্গ হিসেবে দিল্লির লালকেল্লার প্রাচীর থেকে এক অত্যন্ত দূরদর্শী ও যুগান্তকারী ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আধুনিক যুগে দেশের নিরবচ্ছিন্ন শক্তি সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে এবং বিদেশ শক্তির ওপর জ্বালানি নির্ভরতা চিরতরে ঘুচিয়ে দিতে ভারত এই দশকেই পাঁচটি নতুন পারমাণবিক চুল্লি চালু করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন। জাতির উদ্দেশে দেওয়া তাঁর এই বিশেষ ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য শক্তি সুরক্ষা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
এই লক্ষ্য অর্জনের পথ প্রশস্ত করতেই সংসদে শান্তি আইন (SHANTI Act) পাস করে একটি শক্তিশালী আইনি ও কাঠামোগত ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সুনির্দিষ্ট ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী দিনে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জনের এক বিশাল লক্ষ্য নিয়ে দেশ এগিয়ে চলেছে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংঘাতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারত যে এখন শক্তিতে পুরোপুরি আত্মনির্ভর হয়ে উঠতে চায়, তা মোদীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি দেশবাসীকে মনে করিয়ে দেন যে, ভারতকে আর অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে বসে থাকলে চলবে না, বরং নিজেদের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে জাতীয় স্বার্থ সুদৃক্ষ করতে হবে। এই সংকল্পকে বাস্তবে রূপ দিতেই ‘আত্মনির্ভর ভারত’, ‘মেক-ইন-ইন্ডিয়া’, ‘স্বদেশী’ এবং ‘ভোকাল ফর লোকাল’ আন্দোলনের মতো উদ্যোগগুলোকে দেশের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জ্বালানি স্বনির্ভরতার পাশাপাশি রেল যোগাযোগ ও পরিবহণ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের খতিয়ানও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে জানান যে, ১৯২৫ সালে দেশে রেলের বিদ্যুতায়নের কাজ শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ প্রায় নব্বই বছরে মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। অথচ বিগত মাত্র এক দশকে বর্তমান সরকার ১০০ শতাংশ রেল বিদ্যুতায়নের এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়ে তুলেছে। এর ফলে একদিকে যেমন বিদেশি আমদানিকৃত ডিজেলের ওপর দেশের বিশাল নির্ভরতা নাটকীয়ভাবে কমেছে, তেমনই পরিবেশ দূষণ রোধেও এটি এক বিরাট সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। এর পাশাপাশি দেশের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন চালু করার মতো আধুনিক প্রযুক্তির হাত ধরে সবুজ পরিবহণের ক্ষেত্রেও এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ভারত।