লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ! রাজনৈতিক দলগুলিকে সরাসরি ঐতিহাসিক বার্তা মোদীর

দেশের রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিমণ্ডলে এক নতুন যুগান্তকারী পরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার তিনি দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলকে দলীয় সঙ্কীর্ণতা এবং রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি ভুলে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট আর্জি, লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য সুনিশ্চিত করতে হবে ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছেন যে, দেশের আগামী দিনের নীতি নির্ধারণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে নারীদের সক্রিয় নেতৃত্ব দেওয়াটা অত্যন্ত জরুরি ও অবশ্যম্ভাবী।

লালকেল্লার প্রাকার থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া তাঁর এই বিশেষ ভাষণে প্রধানমন্ত্রী পঞ্চায়েত, পৌরসভা এবং নগর নিগমগুলির মতো স্থানীয় স্বায়ত্বশাসন স্তরে মহিলা জনপ্রতিনিধিদের অসাধারণ অবদানের কথা সবিস্তারে তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, বর্তমানে গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের তৃণমূল স্তরে আমাদের মায়েরা ও বোনেরা অত্যন্ত দক্ষতা, সততা এবং বলিষ্ঠতার সঙ্গে দেশকে পথ দেখাচ্ছেন এবং স্থানীয় সমস্যাগুলির সফল সমাধান করছেন। রাজনীতিতে মহিলাদের এই ক্রমবর্ধমান ও শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই অতীতে সংসদে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ পাশ করানো হয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যবশত, বিগত প্রায় ৪০ বছর ধরে নানা ধরনের রাজনৈতিক স্বার্থের লড়াই এবং দড়ি টানাটানির কারণে এই মহৎ স্বপ্ন বারবার পিছিয়ে গেছে এবং আটকে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এ দিন লালকেল্লার ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকার নীচে দাঁড়িয়ে দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতি আন্তরিক আবেদন জানিয়ে বলেন, “আসুন, আমাদের দেশের মহিলাদের সসীম শক্তি, মেধা ও দক্ষতাকে যথাযথ সম্মান জানাই। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের মা-বোনেদের অধিকার রক্ষা করতে দ্রুত রাজ্য বিধানসভা ও লোকসভায় ৩৩% প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করুন, যাতে তাঁরা ভারতের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় সরাসরি এবং সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন।” উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বহুচর্চিত ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম, ২০২৩’ আইনটি সংসদের উভয় কক্ষেই বিপুল ভোটাভুটিতে পাশ হয়ে গেলেও, এর সঙ্গে জড়িত সংবিধানের সংশোধনী বিলটি লোকসভায় প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে আটকে যায়। এর আগে গত ১৭ এপ্রিল পর্যাপ্ত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন না মেলায় বিলটি চূড়ান্ত রূপ পেতে ব্যর্থ হয়, যাতে আইনসভাগুলিতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব ছিল।

এই প্রসঙ্গের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত এক দশকে ভারতের সাফল্যের পথচলা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সঙ্কটের কথাও দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত বারো বছরের দীর্ঘ যাত্রাপথে ভারতকে অত্যন্ত কঠিন ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। মহামারী কোভিড-১৯-এর ভয়াবহ তাণ্ডব থেকে শুরু করে ইউক্রেন এবং পশ্চিম এশিয়ার ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। বিশ্বজুড়ে এক তীব্র অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যেখানে বহু আন্তর্জাতিক ভবিষ্যদ্বক্তা ভারতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নানা নেতিবাচক আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সমস্ত প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আজ ভারত আত্মনির্ভরতার পথে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। মহিলা নেতৃত্বকে সামনে রেখে এই অগ্রযাত্রাকে আরও মজবুত করতে রাজনৈতিক দলগুলির সদিচ্ছা এবং সহযোগিতা এখন সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।