“থালা-বাটি-ডিম উড়ে এল পুলিশের সামনেই! পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের গ্রেফতারিতে তুলকালাম”

ওড়িশার বালাসোর থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে আদালতে পেশ করার সময় তীব্র বিক্ষোভ ও ক্ষোভের মুখে পড়তে হলো পুলিশকে। শুক্রবার খড়দা থানা থেকে বের করে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর ওপর ডিম ও কাদা ছোড়া হয়। এমনকি বিক্ষুব্ধ জনতা জুতো ও লাথি নিয়েও তেড়ে যায়। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নির্মল ঘোষের পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠ তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কীভাবে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন নির্মল ঘোষ? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের শুরুতে একটি রহস্যজনক গাড়ির নম্বর হাতে পান গোয়েন্দারা। একাধিক টোল প্লাজা পার হওয়ার সময় ওই গাড়িটিকে ট্র্যাক করা হয়। পুলিশ জানতে পারে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লি সহ বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক। এমনকি গত এক সপ্তাহ ধরে ওই গাড়িটিকেই ব্যবহার করছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বালাসোরের একটি হাইওয়ে সংলগ্ন হোটেলের সামনে পশ্চিমবঙ্গের নম্বরের গাড়িটি দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের। হোটেলের রেজিস্টার চেক করে নির্মল ঘোষের নাম নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি, তিনি একটি অস্থায়ী মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও সেটি বন্ধ থাকায় শেষপর্যন্ত গাড়ির সূত্র ধরেই তাঁকে পাকড়াও করে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের গোয়েন্দা ও খড়দা থানার পুলিশ।
সৌগত রায়ের প্রতিক্রিয়া: দলীয় নেতার গ্রেফতারি এবং তাঁকে ঘিরে চলা বিক্ষোভ ও ডিম ছোড়ার ঘটনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তিনি বলেন, “আমি সত্যিই দুঃখিত। নির্মল ঘোষ দীর্ঘদিনের একজন বিধায়ক ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাটে সাহায্য করার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। অথচ তিনি তো স্থানীয় বিধায়ক হিসেবে শ্মশানে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে অপরাধ কোথায়, তা আদালতে বিচার হোক। কিন্তু এইভাবে রাস্তা বা আদালতের চত্বরে ডিম ছোড়া ও স্লোগান দেওয়ার ঘটনা ঘটলে আইনের বা আদালতের আর কী প্রয়োজন থাকে? এটি বর্তমান সরকারের চরম ব্যর্থতারই অন্যতম উদাহরণ।”
পুলিশ সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, নির্মল ঘোষের এই মামলায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হতে পারে এবং পরবর্তীতে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে।