“হাতছাড়া হবে নাকি অবশেষে অধরা মাধুরী ধরা দেবে? চন্দ্রশেখরনের পর টাটার মুকুট কার মাথায়?”

নামটা এর আগেও বহুবার উঠেছিল। একবার নয়, পাক্কা দু’বার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাটা সন্সের চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসা হয়নি নোয়েল টাটার। ২০১২ সালে রতন টাটা যখন অবসরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছিল তাঁর নাম। এর পর চার বছর বাদে সাইরাস মিস্ত্রিকে সরিয়ে ফের যখন টাটা গোষ্ঠীর শীর্ষপদে নতুন মুখ খোঁজা শুরু হয়, তখনও দৌড়ে ছিলেন নোয়েল। কিন্তু দুই ক্ষেত্রেই শেষ হাসি হেসেছিলেন অন্য কেউ। এবার এন চন্দ্রশেখরনের বিদায়ের পর ফের সেই একই প্রশ্ন—তাহলে কি এবার টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদে বসতে চলেছেন নোয়েল টাটাই?
এবারের সমীকরণ অবশ্য আগের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। উনসত্তর বছরের নোয়েল টাটা আজ আর কেবল টাটা গোষ্ঠীর একজন অভিজ্ঞ কর্তা নন, তিনি বর্তমানের টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান। উল্লেখ্য, টাটা সন্সের ৬৬ শতাংশ মালিকানা রয়েছে এই ট্রাস্টগুলিরই হাতে। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে টাটা সন্সের বোর্ডেও নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে যুক্ত হয়েছেন তিনি।
অর্থাৎ, অতীতে যাঁকে কেবল উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় পাওয়া যেত, আজ তিনি স্বয়ং টাটা গোষ্ঠীর মালিকানা কাঠামোর অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক। ফলে চন্দ্রশেখরনের উত্তরসূরি বাছাই প্রক্রিয়ায় তাঁর বর্তমান অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রতন টাটার মতো জনপরিসরে খুব বেশি প্রচারের আলোয় থাকা মানুষ নন নোয়েল। বরং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যবসা সফলভাবে পরিচালনা এবং বোর্ডরুমের নীতি নির্ধারণ করেই তিনি নিজের শক্ত ঘাঁটি তৈরি করেছেন। ১৯৯৯ সালে টাটা গোষ্ঠীর রিটেল ব্যবসা ‘ট্রেন্ট’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর সাফল্যের যাত্রা শুরু। তাঁর হাত ধরেই ওয়েস্টসাইড এবং জুডিও-র মতো ব্র্যান্ডের দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটে, যা টাটা গোষ্ঠীর খুচরো ব্যবসাকে নিয়ে যায় এক অনন্য উচ্চতায়।
এছাড়াও টাটা ইন্টারন্যাশনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় দায়িত্ব সামলে ব্যবসার পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়েছিলেন তিনি। ভোল্টাস, টাটা ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন, টাটা স্টিল এবং টাইটানের মতো নামী সংস্থার বোর্ডের দায়িত্বও সাফল্যের সঙ্গে সামলেছেন নোয়েল টাটা। গত বছরের অক্টোবরে রতন টাটার প্রয়াণের পর টাটা ট্রাস্টসের প্রধান হিসেবে তাঁর কাঁধে দায়িত্ব আসার ফলে গোষ্ঠীর মালিকানা ও পরিচালন কাঠামোয় তাঁর প্রভাব একলাফে অনেকটাই বেড়ে গেছে।
আগামী ফেব্রুয়ারিতেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে বর্তমান প্রধান এন চন্দ্রশেখরনের। এর পর কে ধরবেন টাটা সাম্রাজ্যের রিমোট কন্ট্রোল, তা নির্ধারণে বোর্ডের পাশাপাশি টাটা ট্রাস্টসের ভূমিকা হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যপ্রযুক্তি, অটোমোবাইল, ইস্পাত, এভিয়েশন, রিটেল থেকে শুরু করে আর্থিক পরিষেবা—বিস্তৃত এই সাম্রাজ্যের ব্যাপ্তি সামলানো চাট্টিখানি কথা নয়। একই সঙ্গে টাটা সন্সকে ভবিষ্যতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা হবে কি না, সেই জটিল প্রশ্নটিও রয়েছে নতুন নেতার সামনে।
অতীতে দু’বার সুযোগ হাতছাড়া হলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তৃতীয় বার কি সত্যিই নোয়েল টাটার জন্য খুলবে কাঙ্ক্ষিত দরজা? এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের ব্যবসায়িক মহল।