‘কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে আমি দুঃখিত…’, -নেতাজি বিতর্ক তুঙ্গে উঠতেই সাফাই অনন্ত মহারাজের

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার জেরে সৃষ্ট চরম বিতর্কের মুখে শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করলেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ নগেন রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ। নেতাজিকে নিয়ে দেওয়া তাঁর কুরুচিকর বক্তব্য ঘিরে রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠার পর, অবশেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
ঠিক কী বলেছেন অনন্ত মহারাজ?
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি ক্ষমা প্রার্থনার ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন অনন্ত মহারাজ। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’ সেই সঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, ‘নেতাজির প্রতি সম্পূর্ণ সম্মান জানিয়ে বলছি, নেতাজিকে নিয়ে আমার অনিচ্ছাকৃত কিছু বক্তব্যের জন্য যদি কেউ মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমি হাত জোড় করে ক্ষমা চাচ্ছি।’
প্রসঙ্গত, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও আজাদ হিন্দ ফৌজকে অবমূল্যায়ন করে তাঁর করা মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র ঝড় উঠেছিল। এর পরেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ করে তাঁর ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সরকারের উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনায় জানানো হয়েছিল, এমন একজন ব্যক্তির কাছে এই সম্মান থাকা ‘বঙ্গবিভূষণ’-এর মর্যাদার সঙ্গে একেবারেই মানানসই নয়। যদিও এই সম্মানটি তাঁকে প্রদান করেছিল পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকার।
শুভেন্দুর কড়া বার্তা ও পুলিশের அதிர্দ পদক্ষেপ
কোচবিহারের এই নেতার মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলেও প্রবল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী নাম না করে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, নেতাজি সম্পর্কে কোনো ধরনের অপমানজনক বা কটূক্তি বরদাস্ত করা হবে না। এক্ষেত্রে অভিযুক্ত যতই প্রভাবশালী বা জনপ্রতিনিধি হোন না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে, অনন্ত মহারাজের অনুগামীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। নেতাজিকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর পোস্ট ও অবমাননা করার অভিযোগে শুক্রবার সকালেই আরও দুই অনুগামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বঙ্গবিভূষণ সম্মান কেড়ে নেওয়া এবং পুলিশি কড়াকড়ির পরেই যে অনন্ত মহারাজ সুর নরম করতে বাধ্য হয়েছেন, তা স্পষ্ট রাজনৈতিক মহলের কাছে।