মহিলাদের জন্য বিরাট সুখবর! অন্নপূর্ণা যোজনার কঠিন শর্ত শিথিল করতেই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে সরাসরি টাকা

পশ্চিমবঙ্গের দরিদ্র ও সাধারণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে এবং তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের সুবিধা যাতে আরও বেশি সংখ্যক দুস্থ মহিলা কোনো রকম বাধা ছাড়াই সহজে পেতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এবার প্রকল্পের নিয়মনীতি ও পূর্বের কঠিন শর্তগুলিতে বড় ধরনের শিথিলতা আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এর ফলে অতীতে নির্দিষ্ট কিছু কঠোর যোগ্যতার মারপ্যাঁচে যেসব সাধারণ মহিলারা এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন, তাঁদের প্রত্যেকের জন্যই এবার নতুন করে এই প্রকল্পের আওতায় আসার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এতদিন পর্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় যাঁদের তিন বা তার বেশি কক্ষের পাকা ঘর কিংবা ৫০ ডেসিমেলের বেশি নিজস্ব জমি বা সম্পত্তি থাকত, তাঁরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতার বাইরে চলে যেতেন এবং কোনো সুবিধা পেতেন না। কিন্তু বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মহিলাদের আর্থিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সেই সমস্ত অবাস্তব ও কড়া শর্তগুলি সম্পূর্ণ শিথিল করা হয়েছে। অর্থাৎ, এখন থেকে গ্রামীণ অঞ্চলে তিন কক্ষের বেশি ঘর বা ৫০ ডেসিমেলের বেশি জমি থাকলেও যোগ্য মহিলারা অনায়াসেই এই অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সুবিধার আওতাভুক্ত হতে পারবেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত জুলাই মাসে প্রকাশিত প্রাথমিক সুবিধাপ্রাপকদের তালিকায় প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত নানা ধরনের ত্রুটি বা গরমিল ছিল বলে সরকারিভাবে স্বীকার করা হয়েছে। যার ফলস্বরূপ বহু প্রকৃত ও যোগ্য মহিলা সঠিক সময়ে তাঁদের প্রাপ্য আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। সেই প্রশাসনিক ভুলত্রুটি শুধরে এবং স্বচ্ছতা বজায় রেখেই আরও বহু বঞ্চিত যোগ্য মহিলাকে এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের স্থায়ী আওতায় নিয়ে আসার সুচিন্তিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত জুন মাসে প্রায় ২৮ লক্ষ এবং জুলাই মাসে প্রায় ১ কোটি ১৯ লক্ষ উপভোক্তা মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাঠানো হয়েছিল। পাশাপাশি, চলতি আগস্ট মাসের নির্ধারিত বরাদ্দ টাকা আগামী ১৭ আগস্ট থেকে উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হবে এবং ওই একই দিনে চূড়ান্ত যোগ্য উপভোক্তার সংখ্যাও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
তবে এই শর্ত শিথিলকরণের ফলে সরকারের ওপর যে অতিরিক্ত আর্থিক চাপের সৃষ্টি হবে, তা বলাই বাহুল্য। প্রশাসনিক হিসাব অনুযায়ী, এই নতুন নিয়ম পরিবর্তনের জেরে চলতি অর্থবর্ষে এই প্রকল্পে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বেশি খরচ হতে পারে। যার ফলে এই প্রকল্পের মোট আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশাল অংকে গিয়ে পৌঁছাতে পারে বলে জোর অনুমান করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে প্রতি মাসের ঠিক দ্বিতীয় সপ্তাহেই নিয়মিতভাবে যোগ্য মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানোর এক স্থায়ী ও সুশৃঙ্খল পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, কোনো উপভোক্তা যদি টাকা পাওয়া সংক্রান্ত কোনো ধরনের সমস্যা বা হয়রানির মুখোমুখি হন, তবে তাঁদের তাত্ক্ষণিক অভিযোগ জানানোর সুবিধার্থে একটি বিশেষ অনলাইন অভিযোগ নিষ্পত্তি পোর্টাল চালুর বন্দোবস্তও করা হচ্ছে। সরকারের এই দ্বিমুখী পদক্ষেপে গ্রামীণ বাংলার নারী সমাজ যে ব্যাপক উপকৃত হবে, তা বলাই বাহুল্য।