৫০ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক দিল্লি-মুম্বই হাইওয়ে! মুকুন্দরা টানেলে জল জমার আসল কারণ কী?

টানা প্রায় ৫০ ঘণ্টার ক্লান্তিহীন লড়াইয়ের পর অবশেষে স্বাভাবিক হলো দিল্লির সঙ্গে মুম্বইয়ের সংযোগকারী হাইওয়ে। মুকুন্দরা হিলস টাইগার রিজার্ভের নিচে অবস্থিত হাইপ্রোফাইল মুকুন্দরা টানেল (Mukundra Tunnel) থেকে জমে থাকা জল সম্পূর্ণ নিষ্কাশন করে যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করেছে জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI)। অতিরিক্ত পাম্প ও শক্তিশালী জেনারেটর লাগিয়ে একটানা প্রচেষ্টার ফলেই এই বিশাল জলমগ্ন পরিস্থিতি থেকে অবশেষে মুক্তি মিলেছে।

গত কয়েকদিনের লাগাতার ভারী বৃষ্টিতে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টানেলের ভেতরে হু হু করে জল ঢুকতে শুরু করে। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বুধবারই টানেলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর জেরে মুম্বইগামী সমস্ত গাড়িকে বিকল্প পথ হিসেবে ঐতিহাসিক দরা উপত্যকার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত গাড়ির চাপে ওই সময় দরা ঘাট এলাকায় তীব্র যানজট ও দীর্ঘ গাড়ির লাইন তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হতে হয় কোটা গ্রামীণ পুলিশের মোদক থানাকে এবং মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।

ড্রেনেজ সিস্টেম নিয়ে বড় প্রশ্ন

টানেলের ভেতর জল জমার এই আকস্মিক ঘটনায় এর নির্মাণশৈলী ও জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা বা ড্রেনেজ সিস্টেম নিয়ে দেশজুড়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এনএইচএআই-এর প্রোজেক্ট ডিরেক্টর সন্দীপ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে নির্মাণকাজ চলাকালীনই এই টানেলে সিপেজ বা চুইয়ে জল পড়ার সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছিল। জল জমিয়ে রাখার জন্য আড়াই কোটি লিটার ধারণক্ষমতার একটি বিশাল আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাঙ্কও তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি অতিরিক্ত জল ঢুকে পড়ায় পুরনো পাম্পগুলির পক্ষে তা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি।

এনএইচএআই-এর সাফাই

কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, এই জল জমার ফলে টানেলের মূল কাঠামোর বা স্ট্রাকচারের কোনো ধরনের ক্ষতি হয়নি। বিশেষজ্ঞদের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ মেনেই এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছিল। তবে ভবিষ্যতে যাতে আর কখনো এই ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে না হয়, সেই কারণে পাম্পের ক্ষমতা বাড়িয়ে ৪২০ হর্সপাওয়ার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন করে একাধিক শক্তিশালী পাম্প বসানোর কাজও চলছে, যাতে আগামী দিনে অতিরিক্ত বর্ষণেও মুকুন্দরা টানেল সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে।