‘অসুবিধা হলে স্বেচ্ছাবৃতী নিন!’ বেআইনি নির্মাণকাণ্ডে ২৭ জনকে ব্ল্যাকলিস্ট করার চরম হুঁশিয়ারি অগ্নিমিত্রার

তারাতলার ঘটনার পর নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন। কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার নির্মীয়মান ভবনগুলির কাজ বন্ধ রেখে অডিটের নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য পুর দফতর। অবশেষে সল্টলেকের IGLUS ভবনে এক সাংবাদিক বৈঠকে সেই অডিটের চাঞ্চল্যকর ফলাফল প্রকাশ্যে আনলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং রাজ্যের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি খলিল আহমেদ সহ বিভিন্ন নির্মাণ সংস্থার প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি খলিল আহমেদ জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে ২৭টি বড় বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে, এই ধরনের বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত বিল্ডারদের প্রকাশ্যে জবাবদিহি করতে হবে। কোনোভাবেই এই অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
এদিনের বৈঠকে কড়া ভাষায় ডেভেলপারদের হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল বলেন, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ। যাঁরা আজ এই ধরনের বিল্ডিং কিনবেন, তাঁরা হয়তো বুঝতেই পারবেন না যে আগামী দিনে সেগুলির তারাতলার মতো ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। আগামী দিনে এই বিষয়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনারা যারা বেআইনি নির্মাণ করেছেন, তারা স্পষ্টতই অপরাধ করেছেন।”
যাঁরা নিয়ম মেনে কাজ করতে পারবেন না, তাঁদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী আরও স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অসুবিধা হলে ভলান্টারি রিটায়ারমেন্ট (স্বেচ্ছাবৃতী) নিয়ে নিন।” বেআইনি নির্মাণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের এই কঠোর ও অনমনীয় মনোভাব প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট শোরগোল ফেলে দিয়েছে।