এনআরএস হাসপাতালের শৌচাগারে রহস্যমৃত্যু! মিলল ফেন্টানিল-মিডাজোলামের ভায়াল, কী চলছে অন্দরে?

নীলরতন সরকার (NRS) মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক তরুণী নার্সের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের স্ত্রী-রোগ বিভাগের এইচডিইউ (HDU) ওয়ার্ডের শৌচাগার থেকে ভেঙে ওই নার্সের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিউটি চলাকালীন হঠাৎই কর্মস্থল থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন ওই নার্স। পরবর্তীতে শৌচালয়ের দরজা ভেঙে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ঘিরে দানা বেঁধেছে গভীর রহস্য।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, মৃত ওই নার্সের দেহের পাশেই অচৈতন্য করার শক্তিশালী ওষুধ ফেন্টানিল এবং মিডাজোলামের তিনটি ভায়াল পড়েছিল। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, তাঁর কনুইয়ের সন্ধিস্থলের শিরায় ওই ইনজেকশন পুশ করা হয়েছিল। এই চাঞ্চল্যকর খবর ছড়িয়েই পড়তেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে এনআরএস হাসপাতালে দ্রুত ছুটে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি হাসপাতালের অধ্যক্ষ এবং মেট্রনের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন এবং পুরো পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনাটির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড শাখা। ওয়ার্ডে রাতে কর্তব্যরত অন্যান্য নার্সদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট করতে মৃতার মোবাইল ফোনের কল লিস্ট এবং শেষ কার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ওয়ার্ডের হেড নার্স জানিয়েছেন, ঘটনার দিন রাত নটা দশ থেকে পনেরো মিনিট নাগাদ শৌচালয়ে গিয়েছিলেন ওই নার্স। এরপর সেনসাসের সময় তাঁকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। এন্টালি থানার পুলিশ সূত্রে খবর, এনআরএস হাসপাতালের তরফ থেকে এইচডিইউ ওয়ার্ডের ৩৩ নম্বর রুমে এক নার্সের আত্মহত্যার খবর আসার পরই হোমিসাইড টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।