প্রথম দেখাতেই হবু স্ত্রীর সঙ্গে দারুণ মজার প্র্যাঙ্ক! ভাইরাল হওয়া সেই যুবকের কাণ্ড শুনলে চমকে যাবেন!

ভাবুন তো, কেউ যদি বিয়ের জন্য দেখা হওয়া সম্ভাব্য পাত্রী বা সম্পর্কগুলোর একটি ডেটাবেস তৈরি করে তাতে ‘চলমান’, ‘স্থগিত’ বা ‘শেষ’ স্ট্যাটাস লিখে রাখে, তবে তাকে আপনি কী বলবেন? আধুনিক যুগের কর্পোরেট অভ্যাস নাকি একটি অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত ও প্র্যাকটিক্যাল পদক্ষেপ? পুনের ২৯ বছর বয়সি তরুণ বিকাশ লোহতিয়া ঠিক এই কাণ্ডটিই করে দেখিয়েছেন। অ্যারেঞ্জড ম্যারেজের বাজার যখন ভীষণভাবে জটিল হয়ে উঠল, তখন তিনি এক্কেবারে হুবহু এইচআর-এর রিক্রুটমেন্ট পদ্ধতি বেছে নিলেন। পেশায় মেটাল কোম্পানির প্রকিউরমেন্ট ম্যানেজার তথা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বিকাশ একটি আস্ত ‘ম্যারেজ ট্র্যাকার’ এক্সেল শিট বানিয়ে ফেলেন। এই অদ্ভুত অথচ দারুণ কার্যকরী শিটটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে হইচই।

প্রায় ১২ মাসের দীর্ঘ ও কঠোর পরিশ্রম, ৫৩টি প্রার্থীর প্রোফাইল খুঁটিয়ে দেখা এবং অসংখ্য মানসিক কথোপকথনের পর বিকাশ অবশেষে তাঁর মনের মতো জীবনসঙ্গিনীকে খুঁজে পেয়েছেন। একটি জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁদের এই অনন্য প্রেমের গল্পের শুরুটা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন। বিকাশ জানান, ২০২৫ সালে তিনি এই স্প্রেডশিটটি তৈরি করেছিলেন, যাতে তিনি এবং তাঁর বাবা-মা উভয়েই আলোচনার অগ্রগতি সহজে ট্র্যাক করতে পারেন। দীর্ঘ এক বছরের রুদ্ধশ্বাস খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে একটি মেট্রিমোনিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গুরুগ্রামের এক কলেজ অধ্যাপিকার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়।

বিকাশ আরও ব্যাখ্যা করেন, “আমি গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে ট্র্যাকারটি আপডেট করা শুরু করি এবং নভেম্বর থেকে তাঁর সঙ্গে কথা বলা শুরু হয়। প্রায় ৯ থেকে ১০ মাস একটানা আলোচনার পর আমরা দুজনেই বিয়ের পিঁড়িতে বসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিই। উভয় পরিবারই এই সম্পর্কে অত্যন্ত খুশি এবং আগামী ২০২৭ সালের জুন মাসে আমাদের বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়েছে।”

তাদের প্রথম সাক্ষাতের মজার একটি ঘটনা শেয়ার করতে গিয়ে বিকাশ জানান, এই সম্পর্ক গড়ে ওঠার পেছনে দুজনের মানসিকতা ও লাইফস্টাইলের চমৎকার মিল ছিল। যেহেতু দুজনেই হরিয়ানার বাসিন্দা, তাই একে অপরকে বুঝতে ও মানিয়ে নিতে কোনো অসুবিধাই হয়নি। তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, তাঁদের প্রথম ডেটে বিকাশ একটি দারুণ প্র্যাঙ্ক করেছিলেন। অনেক মেয়ের ক্ষেত্রেই সঙ্গীর মোটা অংকের মাইনে নিয়ে একটা বড় প্রত্যাশা থাকে। তাই বিকাশ প্রথম সাক্ষাতেই তাঁর হবু স্ত্রীকে সকালেই বলে দিয়েছিলেন যে, তিনি তাঁর আসল আয়ের ঠিক অর্ধেক টাকা উপার্জন করেন! পরে অবশ্য যখন সত্যিটা সামনে আসে, তখন দুজনেই হাসিতে ফেটে পড়েন।

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, বিকাশের হবু স্ত্রী এই ভাইরাল হওয়া এক্সেল শিটের রহস্য সম্পর্কে আগে থেকেই জানতেন এবং তিনি খবরের কাগজে তা দেখেওছিলেন। বিকাশ দাবি করেন, বিয়ের মতো এত বড় একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে হবু সঙ্গীর সঙ্গে আর্থিক স্বচ্ছতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা সবচেয়ে জরুরি। আর মজার বিষয় হলো, এই এক্সেল প্রজেক্ট থেকেই তাঁর কন্টেন্ট ক্রিয়েশন ও কনসালটেন্সির দুনিয়ায় নতুন পথচলা শুরু হয়। গত এক বছরে তিনি অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ নিয়ে প্রায় ১,২০০টি রিল বা ভিডিও তৈরি করেছেন এবং ৫,০০০-এরও বেশি মানুষকে ব্যক্তিগত পরামর্শ দিয়েছেন। একটি সাধারণ এক্সেল শিট দিয়ে শুরু হওয়া তাঁর এই যাত্রাপথ আজ তাঁর এক নতুন পরিচয় ও উপার্জনের স্থায়ী মাধ্যম হয়ে উঠেছে।