কম্বলে মোড়া রক্তাক্ত দেহ! দমদমে ভাড়া বাড়ি থেকে তরুণী গৃহবধূর রহস্যমৃত্যুতে চরম চাঞ্চল্য

কলকাতার উপকণ্ঠে ফের এক রোমহর্ষক ও মর্মান্তিক অপরাধের ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার ব্যস্ততম দমদম ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সুভাষ নগর অঞ্চলে একটি বন্ধ ঘর থেকে কম্বলে মোড়ানো এক তরুণীর রক্তাক্ত ও নিথর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত ওই মহিলার শরীরে একাধিক গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। খবর পাওয়ামাত্রই দমদম থানার এক বিশাল পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, মৃত ওই মহিলার নাম জয়া প্রামানিক। গত প্রায় দুই বছর ধরে তিনি সুভাষ নগর এলাকার একটি ভাড়াবাড়িতে বসবাস করছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে জানিয়েছেন যে, নিহত ওই মহিলার একটি তিন বছরের ছোট কন্যাসন্তান রয়েছে। পেশাগত কাজের সূত্রে জয়া বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করতেন। এই কারণে তাঁর ওই নাবালক সন্তান সাধারণত শ্যামবাজারে অবস্থিত তাঁর বাপের বাড়িতেই থাকত। এরপর রাতের দিকে কাজ সেরে ফেরার পথে জয়া নিজের ছেলেকে বাপের বাড়ি থেকে সঙ্গে করে নিজের ভাড়া বাড়িতে নিয়ে আসতেন।

তদন্তে নেমে পুলিশ স্থানীয় লোকজনের মুখে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছে। এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী, জয়ার ওই ভাড়া বাড়িতে প্রায়শই এক অপরিচিত ব্যক্তির যাতায়াত ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই রহস্যময় ব্যক্তি বেশ লম্বা এবং সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন। তিনি মূলত বেদিয়াপাড়ার ঝিল কলোনি এলাকায় বসবাস করতেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার দিন রাতে জয়ার পরিবারের লোকজন তাঁকে বারবার ফোন করেও কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি। এর পরেই তাঁরা উদ্বিগ্ন হয়ে সরাসরি জয়ার বাড়িতে আসেন এবং ঘরের মেঝেতে তাঁর রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দমদম থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং ঘর থেকে রক্তাক্ত দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। পাশাপাশি অপরাধের কিনারা করতে ইতিমধ্যেই দমদম থানার পুলিশ ওই এলাকার সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের প্রবল অনুমান, নিহত মহিলার সঙ্গে ওই রহস্যময় ব্যক্তির কোনো অবৈধ সম্পর্ক বা পরকীয়া প্রেমের যোগাযোগ ছিল। আর সেই পরকীয়ার জেরে কিংবা ব্যক্তিগত কোনো ক্ষোভ থেকেই এই নৃশংস খুন সংঘটিত হয়েছে কি না, তা এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সব দিক বিবেচনা করে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে দমদম থানার তদন্তকারী আধিকারিকেরা।