“জিরো টলারেন্স” নীতির বড় জয়! মহিলাকে লক্ষ্য করে অ্যাসিড ছোড়ার অপরাধে তিন অভিযুক্তকে কী শাস্তি দিল কোর্ট?

অপরাধের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আরও এক বড় এবং যুগান্তকারী সাফল্য সামনে এল। নারকীয় অপরাধ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপের নজির গড়ে এবার অ্যাসিড হামলা মামলার এক চাঞ্চল্যকর রায়ে তিন অভিযুক্তকে কঠোর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। বসিরহাট পুলিশ জেলার ট্রায়াল মনিটরিং টিমের মুকুটে যুক্ত হল এক ঐতিহাসিক আইনি জয়। আলোচিত এই মামলাটিতে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে দোষী সাব্যস্ত হওয়া তিন জনকে আমৃত্যু বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে বসিরহাটের লর্ড এফটিসি দ্বিতীয় আদালত (Ld. FTC 2nd Court)। শুধু কারাদণ্ডই নয়, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা করে নগদ জরিমানাও দিতে হবে। পুলিশ প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার চার্জশিট জমা পড়ার মাত্র ১৬ মাসের মাথায় এই অতি দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নজির সৃষ্টি করল আদালত।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি তারিখে। ওই দিন মাটিয়া থানার অন্তর্গত চক ফরাসতপুর এলাকার সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় এক অসহায় মহিলার ওপর এই পাশবিক ও ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাইকে করে এসে কয়েকজন দুষ্কৃতী প্রকাশ্য রাস্তায় ওই মহিলাকে লক্ষ্য করে তীব্র ক্ষতিকারক অ্যাসিড ছুড়ে মারে। যার ফলে রাস্তাঘাটেই মারাত্মকভাবে জখম ও দগ্ধ হন ওই মহিলা। ঘটনার আকস্মিকতায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তিন অভিযুক্তকে পাকড়াও করে। ধৃত আসামিদের বয়স যথাক্রমে পঞ্চাশ, চব্বিশ এবং একত্রিশ বছর। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই অভিযুক্ত প্রত্যেকেই বসিরহাটের স্থানীয় সরদারআটি এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

ঘটনার পর থেকেই তদন্তের গতিপ্রকৃতি ছিল অত্যন্ত নিখুঁত ও শাণিত। তদন্তকারী দক্ষ অফিসার এলএসআই পায়েল বিশ্বাসের (LSI Payel Biswas) বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে এই স্পর্শকাতর কেসের তদন্ত সম্পন্ন করে। এরপর আদালতের নির্দিষ্ট নিয়মে নির্ভুল চার্জশিট পেশ করা হয়। পরবর্তীতে আদালতকক্ষে পুলিশ প্রশাসন এবং রাজ্য সরকারের আইনি প্রতিনিধিদের পক্ষে অত্যন্ত জোরালো যুক্তি ও তথ্যপ্রমাণ পেশ করা হয়। দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর আদালতের বিচারক এই জঘন্য অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই ঐতিহাসিক ও কড়া রায় ঘোষণা করেন। নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে এই ধরনের দৃষ্টান্তমূলক রায় অপরাধীদের মনে যে বড় বার্তা দেবে, তা বলাই বাহুল্য।