বড় ধাক্কা পেলেন কোটি কোটি গ্রাহক! একঝটকায় বন্ধ হল এয়ারটেলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ৪টি রিচার্জ প্ল্যান

টেলিকম গ্রাহকদের জন্য অপেক্ষা করছে এক বড়সড় ধাক্কা। দেশের অন্যতম প্রধান বেসরকারি টেলিকম অপারেটর ভারতী এয়ারটেল তাদের জনপ্রিয় প্রিপেইড রিচার্জ পোর্টফোলিওতে এক বিরাট ও আকস্মিক পরিবর্তন এনেছে। একঝটকায় দেশের বাজার থেকে চিরতরে তুলে নেওয়া হয়েছে বহুল ব্যবহৃত ২৯৯ টাকা, ৫৭৯ টাকা, ৬১৯ টাকা এবং ৬৪৯ টাকার জনপ্রিয় চারটি প্রিপেইড রিচার্জ প্যাক। এর মধ্যে সাধারণ মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের ওপর সবচেয়ে বেশি কোপ পড়েছে বহুল ব্যবহৃত ২৯৯ টাকার প্ল্যানটি একেবারে বন্ধ করে দেওয়ায়। এখন থেকে গ্রাহকদের এই জনপ্রিয় প্যাকের বিকল্প হিসেবে বাধ্য হয়ে অন্তত ৩৪৯ টাকার রিচার্জ বেছে নিতে হচ্ছে, যা তাঁদের মাসিক মোবাইল খরচের বাজেটকে অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।

এতদিন এয়ারটেলের সাশ্রয়ী ২৯৯ টাকার প্রিপেইড প্ল্যানে ২৮ দিনের মেয়াদের জন্য প্রতিদিন ১.৫ জিবি করে হাই-স্পিড ডাটা পাওয়া যেত। এই প্যাকটি বাতিলের জেরে গ্রাহকদের এখন সোজা ৩৪৯ টাকার রিচার্জ করতে হচ্ছে। ফলে পুরনো ২৯৯ টাকার তুলনায় নতুন এই বিকল্পটির জন্য গ্রাহকদের প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। তবে টেলিকম সংস্থার দাবি, দাম সামান্য বাড়লেও এই নতুন প্ল্যানে বাড়তি কিছু সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এখন থেকে প্রতিদিন ১.৫ জিবির পরিবর্তে ব্যবহারকারীরা পাবেন পুরো ২ জিবি করে ডাটা, যার মেয়াদও থাকছে ২৮ দিন। অর্থাৎ অতিরিক্ত খরচের বিনিময়ে মিলবে দৈনিক অতিরিক্ত ৫০০ এমবি করে হাই-স্পিড ইন্টারনেট ডাটা।

শুধু প্যাক বন্ধ করাই নয়, এয়ারটেল তাদের মধ্যম বাজেটের বা মিড-টিয়ার রিচার্জ তালিকার একাধিক অপশন ছাঁটাই করেছে। ফলে বাজেট ও প্রিমিয়াম প্ল্যানের মধ্যবর্তী বিকল্পগুলির সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। বর্তমানে একদম প্রাথমিক স্তরে ১৯৯ টাকার প্ল্যান রয়েছে এবং তার ঠিক পরেই রয়েছে ২১৯ টাকার একটি প্যাক, যাতে ২৮ দিনে মোট মাত্র ৩ জিবি ডাটা অফার করা হয়। সংস্থার এই সাঁড়াশি সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা মিড-রেঞ্জের নমনীয় ও সাশ্রয়ী বিকল্পগুলির সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন।

টেলিকম বিশেষজ্ঞদের মতে, এটিকে সরাসরি একশো শতাংশ ঢালাও ট্যারিফ বৃদ্ধি বলা চলে না। সংস্থাটি অত্যন্ত সুকৌশলে সব প্ল্যানের দাম একবারে না বাড়িয়ে নির্দিষ্ট কিছু ওভারল্যাপিং প্যাক বন্ধ করে দিয়েছে এবং বাকি বিকল্পগুলির দাম ৫% থেকে ১৬% পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে এক ধাক্কায় সমস্ত গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না চাপিয়েও নিজেদের গড় রাজস্ব বা এভরেজ রেভিনিউ পার ইউজার (ARPU) বাড়ানোর দুর্দান্ত পথ বেছে নিয়েছে এয়ারটেল। মূলত বেশি ডাটা ব্যবহারকারী উচ্চবিত্ত বা সচল গ্রাহকদের কাছ থেকে বাড়তি আয় আদায় করাই এই নতুন কৌশলের মূল লক্ষ্য। এয়ারটেলের এই রক্ষণশীল ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপের পর দেশের বাকি টেলিকম জায়ান্ট যেমন জিও বা ভোডাফোন-আইডিয়া (Vi) একই পথে হাঁটে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।