রাজ্যের নাম বদলে যাচ্ছে শীঘ্রই? বাংলার নাম বদল নিয়ে আপত্তি কোথায়? সরব বিজেপি সভাপতি

কেরলের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বদলে ‘কেরলম’ করার বিল নিয়ে চর্চার মাঝেই পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার ঝড় উঠল সংসদ ভবনে। রাজ্যসভায় কেরল (নাম বদল) বিল ২০২৬-এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে কেরলের নাম পরিবর্তনকে সাধুবাদ জানান রাজ্যসভার সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপি-র সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আর এর রেশ ধরেই তিনি দাবি তোলেন, ইংরেজিতেও রাজ্যের নাম ‘West Bengal’ না রেখে উচ্চারণ অনুযায়ী ‘পশ্চিমবঙ্গ’ (Paschim Banga) করা হোক।
কী যুক্তি দিলেন শমীক ভট্টাচার্য?
সংসদে পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলের দাবির পেছনে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের গভীর ইতিহাস তুলে ধরেন শমীক। অতীতের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, অতীতে রাজ্যে তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার সুবাদে পশ্চিমবঙ্গের নাম শুধু ‘বাংলা’ করার দাবি তোলা হয়েছিল, যার কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি ছিল না।
এই প্রসঙ্গে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান স্মরণ করে শমীক বলেন:
ইতিহাসের প্রেক্ষিত: ১৯৪৭ সালের ২০ জুন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই আজকের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জন্ম হয়েছিল।
বাঙালি হিন্দুদের হোমল্যান্ড: সেই সময় কংগ্রেসও স্বীকার করেছিল যে বাঙালি হিন্দুদের জন্য একটি আলাদা হোমল্যান্ড বা মাতৃভূমি প্রয়োজন।
শমীকের মন্তব্য: শমীকের বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে পশ্চিমবঙ্গের নাম কেবল ‘বাংলা’ করে দেওয়ার দাবির নেপথ্যে ছিল বাঙালি হিন্দুদের অপমান করার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য। তাঁর স্পষ্ট কথা, “পশ্চিমবঙ্গ শুধুই একটি নাম নয়, এটি ইতিহাসের একটি আস্ত অধ্যায়। আমরা চাই, ইংরেজিতেও ওয়েস্ট বেঙ্গল নাম বদলে পশ্চিমবঙ্গ করা হোক।”
মুজফ্ফর আহমেদের আত্মজীবনী ও পটনার নাম বদলের প্রসঙ্গ
এদিন সংসদের বক্তব্যে সিপিআই-এর (CPI) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুজফ্ফর আহমেদের আত্মজীবনীর প্রসঙ্গও টেনে আনেন শমীক। তিনি জানান, আহমেদের লেখায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম’ এবং ‘আনন্দমঠ’-কে যেভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
পাশাপাশি, এনডিএ-র (NDA) অপর এক সদস্যের তোলা নাম বদলের দাবিকেও জোরালো সমর্থন জানান শমীক ভট্টাচার্য। বিহারের রাজধানী পাটনার নাম বদলে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ‘পাটলিপুত্র’ করার পাশাপাশি নালন্দা জেলার বখতিয়ারপুর রেলস্টেশনের নাম পরিবর্তনের দাবির পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।
নাম বদল বিতর্ক ও অন্যান্য সাংসদদের অবস্থান
রাজ্যসভায় কেরলের নাম বদল বিল ঘিরে চলা এই বিতর্কে বিভিন্ন দলের সাংসদরা অংশ নেন। রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চার নেতা উপেন্দ্র কুশওয়াহা বিহারের গৌরবময় ঐতিহ্য তুলে ধরে পাটনার নাম পাল্টে ‘পাটলিপুত্র’ করার দাবি জোরালো করেন।
আলোচনায় অংশ নেন—
টিডিপির বিজয় চিন্তাকায়ালা
সিপিআই(এম)-এর এ এ রহিম
বিজেপির সুধাংশু ত্রিবেদী ও লাহার সিং সিরোয়া
কেরল কংগ্রেস (এম)-এর জোস কে মণি
সিপিআই-এর সদোশ কুমার পি
ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের হারিশ বীরন
ইউপিপি(এল)-এর আর নারজারি এবং ডিএমডিকে-র এল কে সুধীশ
কেরলের পর এবার সংসদের অন্দরে পশ্চিমবঙ্গের ইংরেজি নাম পরিবর্তন এবং বিহারের একাধিক ঐতিহাসিক জায়গার নাম বদলের দাবি ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।