মৃত্যুর মুখে স্কুলযাত্রা! মধ্যপ্রদেশের বাঁধে পিলারে লাফিয়ে পারাপারের ভাইরাল ছবি ঘিরে চাঞ্চল্য

ভারতের মধ্যপ্রদেশের বিদিশা জেলার পালোহ গ্রাম থেকে একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও গ্রামীণ পরিকাঠামো নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় যে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের জীবনের তীব্র ঝুঁকি নিয়ে একটি স্থানীয় বাঁধের এক পিলার থেকে অন্য পিলারে লাফিয়ে নদী পার হয়ে স্কুলে যাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে শিউরে উঠেছে গোটা দেশ।

বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে বিবিসির একটি টিম সরাসরি গ্রামে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলে। অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পড়ুয়ারা জানিয়েছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; গত সাত-আট বছর ধরে গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীরা এভাবেই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুল যাতায়াত করছে। এর আগে বহুবার স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যাওয়া একাদশ শ্রেণির ছাত্র দেব শর্মা তার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে জানায়, এক বছর আগেও তাকে স্কুলের জন্য এই বিপজ্জনক বাঁধের উপর দিয়ে যাতায়াত করতে হতো এবং পিলারে পারাপারের জন্য প্রায় চার ফুট পর্যন্ত লাফাতে হতো। অন্যদিকে, দশম শ্রেণির ছাত্র কেশব গুর্জর অত্যন্ত নিষ্পাপভাবে জানায়, বিকল্প পথে স্কুলে যেতে হলে তাদের প্রতিদিন প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ সাইকেলে যাতায়াত করতে হবে, যা পড়াশোনার সময় ও শক্তির অপচয় ঘটায়। তাই বাধ্য হয়েই তারা এই শর্টকাট রাস্তা বেছে নেয়। আর এক পড়ুয়া রিচা গিরি গোসওয়ামী জানিয়েছে, শুধু তাদের প্রজন্ম নয়, তাদের বড় ভাই-বোন এবং আগের প্রজন্মও দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে এই একই বিপজ্জনক পথ দিয়ে স্কুল পারাপার করে আসছে।

অবশেষে ছাত্র-ছাত্রীদের এই ভাইরাল ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর টনক নড়েছে প্রশাসনের। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গত ৭ আগস্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে এবং মধ্যপ্রদেশ সরকারকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, গত সপ্তাহে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পরিদর্শন প্রতিবেদন তলব করে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মহকুমা শাসক (এসডিএম) ক্ষিতিজ শর্মা দাবি করেছেন যে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার আগে পর্যন্ত তাঁদের কাছে এই বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না। তবে খবর ছড়ানোর পরেই ওই বাঁধের স্তম্ভের উপরে লোহার পাটাতন বসানো হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ ও শিশুরা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে। এছাড়া গ্রামে নবম ও দশম শ্রেণির পঠন-পাঠন চালুর পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার জন্য পড়ুয়াদের বান্ধেরা গ্রামের স্কুলেও ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সাত বছরের অবহেলা ও অন্ধকারের পর অবশেষে এই শিশুগুলোর জীবনরক্ষা এবং শিক্ষার পথ সুগম করতে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।