আকাশে নামছে গাঢ় অন্ধকার! বছরের দ্বিতীয় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ নিয়ে জ্যোতিষী রাহুল দের বিস্ফোরক সতর্কবার্তা

মহাকাশে ফের একবার ঘনিয়ে আসছে এক অলৌকিক ও রহস্যময় অন্ধকার। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং প্রাচীন বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্র—উভয়কেই গভীরভাবে আলোড়িত করে আজ উপস্থিত হয়েছে এই বছরের দ্বিতীয় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এই মহাজাগতিক ঘটনাটি কি শুধুই এক বিরল দৃশ্য, নাকি এর নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে মানবজীবনকে প্রভাবিত করার মতো কোনো গভীর রহস্য? একদিকে মহাকাশে চাঁদ যখন সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেবে সূর্যকে, অন্যদিকে জ্যোতিষ মতে তৈরি হবে এক অত্যন্ত বিশেষ ও শক্তিশালী যোগ। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ভারতের আকাশে কি দেখা মিলবে এই গ্রহণের? এবং এর আসল প্রভাবই বা কী হতে চলেছে?

জ্যোতিষী রাহুল দের মতে, আজকের দিনটি সাধারণ কোনো দিন নয়। একদিকে যেমন সূর্যগ্রহণ, তেমনই অন্যদিকে চলছে পবিত্র অমাবস্যা তিথি। আজ ২৭ শ্রাবণ, বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী এই অমাবস্যা তিথি থাকবে রাত ১১টা ০৬ মিনিট পর্যন্ত। ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজকের তারিখ ১২ আগস্ট ২০২৬। এটি সূর্যের দক্ষিণায়ন, উত্তর বৃত্ত এবং বর্ষা ঋতুর এক বিশেষ সন্ধিক্ষণ। যদিও জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, এই গ্রহণ সরাসরি ভারতের মাটিতে খুব বেশি দৃশ্যমান বা প্রভাব বিস্তারকারী না হলেও, এর আধ্যাত্মিক ও জ্যোতিষীয় তাৎপর্যকে অস্বীকার করা যায় না।

গ্রহণের সময় পরিবেশ ও মানবদেহে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব কিছুটা বৃদ্ধি পায় বলে মনে করা হয়। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন জ্যোতিষী রাহুল দে। তিনি জানিয়েছেন, গ্রহণ চলাকালীন সময়ে গুরু মন্ত্র বেশি বেশি জপ করা অত্যন্ত ফলদায়ক। এই সময়ে কাপড় সেলাই করা বা বাইরে বের হওয়া একেবারেই উচিত নয়। এছাড়া যেকোনো ধরনের লোহা বা ধারালো বস্তু ব্যবহার থেকেও বিরত থাকা প্রয়োজন। এক জায়গায় শান্তভাবে বসে ইষ্টদেবের নাম, গায়ত্রী মন্ত্র কিংবা ‘ওঁ সূর্যায় নমঃ’ জপ করলে মনে ইতিবাচক শক্তি ফিরে আসে। গ্রহণ শুরুর আগেই দুধ, জল এবং রান্না করা খাবারে তুলসী পাতা দিয়ে রাখা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। আর গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর স্নান সেরে সাধ্যমতো গরিব ও দুস্থদের চাল, গম বা বস্ত্র দান করলে পুণ্যলাভ হয়।

বিশেষ করে আজকের এই অমাবস্যা ও সূর্যগ্রহণের সন্ধ্যার সময় ঘরে পজিটিভ শক্তি ফিরিয়ে আনতে একটি বিশেষ টোটকা বা উপায়ের কথা বলেছেন রাহুল দে। তিনি জানান, একটি মাটির পাত্রের মধ্যে পাঁচটি লবঙ্গ ও কর্পূর নিয়ে তা জ্বালিয়ে দিতে হবে। এরপর সেই কর্পূরের ধোঁয়া পুরো বাড়ির প্রতিটি ঘরে ছড়িয়ে দিতে হবে। বিশ্বাস করা হয়, সন্ধ্যার সময় এই সহজ উপায়টি করলে যেকোনো ধরনের কুনজর, অশুভ শক্তি এবং আর্থিক কষ্ট থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আজকের এই মহাজাগতিক ক্ষণে একটু সচেতনতা এবং সঠিক নিয়ম পালন করলেই জীবনের সমস্ত বাধা কাটিয়ে সৌভাগ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।