ঝাড়খণ্ডে ছাত্র বিক্ষোভের জেরে কড়া পদক্ষেপ! ৬০০ আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের পুলিশের

ঝাড়খণ্ডে সরকারি শিক্ষক ও বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজের আন্দোলন আজ ২০ দিনে পা দিয়েছে। পরিস্থিতি গত বৃহস্পতিবার রণক্ষেত্রের রূপ নেয়, যখন বিক্ষোভকারীরা রাঁচিতে ঝাড়খণ্ড বিধানসভা অভিমুখে একটি বিশাল মার্চ বের করেন। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ প্রায় ৬০০ জন বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে, যার মধ্যে ১০০ জনের নাম রয়েছে এবং বাকি ৫০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ছাত্র ও আন্দোলনকারী। ‘জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চ’-এর ব্যানারে জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে অনড় অবস্থানে থাকা পরীক্ষার্থীদের স্পষ্ট দাবি, নিয়োগ পরীক্ষায় পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতে হবে, বিতর্কিত পরীক্ষাগুলি বাতিল করতে হবে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সিবিআই বা ঝাড়খণ্ডের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির প্যানেল গঠন করতে হবে।

গত সোমবার বিধানসভা ঘেরাও অভিযানকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায় এবং পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করে। পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক ময়দানেও চাপানউতোর তুঙ্গে পৌঁছেছে। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস হেমন্ত সোরেন সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যদি সিবিআই তদন্তের দাবি মেনে নেওয়া না হয়, তবে তিনি সরাসরি আমরণ অনশনে বসবেন। পাশাপাশি তিনি ২০২৪ সালের আবগারি কনস্টেবল শারীরিক পরীক্ষার সময় প্রাণ হারানো ১৯ জনের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের জোরালো দাবি তুলেছেন।

এই ইস্যুতে এবিভিপি (ABVP)-র তরফ থেকেও দেশজুড়ে প্রায় বারোশোটিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্র আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি (SIT)-র ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির। বিজেপির পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনের তীব্র অভিযোগ আনা হয়েছে। বিপরীতে, কংগ্রেসের পালটা দাবি, বিজেপি এই ছাত্র আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে এবং বাইরে থেকে লোক এনে রাজ্যের শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।