ঘুম ভাঙার আগেই সব শেষ! ঘাটকোপরে ভূমিধসের কবলে পড়ে প্রাণ হারালেন বহু মানুষ

মুম্বইয়ের ঘাটকোপরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা। বুধবার ভোরে পাহাড়ের একটি বিরাট অংশ ধসে পড়ে চাওলের একাধিক ঘরের উপর। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ছ’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বেশ কয়েকজন আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা নিয়ে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার ভোর প্রায় ৩টে বেজে ৪৮ মিনিট নাগাদ। চিরাগ নগরের গাউসিয়া চাওলে, রাঠোর মেডিক্যালের ঠিক পাশেই পাহাড়ের গা থেকে আচমকা মাটি ও পাথর ভেঙে পড়ে। সেই বিশাল পরিমাণ জঞ্জাল ও মাটি সোজাসুজি আছড়ে পড়ে দু’ থেকে তিনটি ছোট ঘরের উপর। রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত মানুষের উপর এই বিপত্তি নেমে আসায় পালানোর বিন্দুমাত্র সুযোগ মেলেনি। স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে আসে পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল।

ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করে ২৮ বছরের সাহিল আনসারি এবং ১৪ বছরের মহম্মদ সামিরকে অবিলম্বে নিকটবর্তী রাজাওয়াড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা তাঁদের পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ৩ থেকে ৪ জনের আটকা পড়ার আশঙ্কা করা হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সংখ্যাটি ৬ থেকে ৮ জনেরও বেশি হতে পারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ভোর প্রায় ৪টে বেজে ৩২ মিনিটে মুম্বই ফায়ার ব্রিগেড এই ঘটনাটিকে ‘লেভেল-২’ জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা করে।

সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ। প্রায় ৫০ জন বৃহন্মুম্বই পুরনিগমের (BMC) কর্মী এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)-র জওয়ানরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযানে নেমেছেন। ধ্বংসস্তূপ দ্রুত সরাতে এবং ভেতরে আটকে থাকা বাকিদের সন্ধানে ভারী যন্ত্রাংশ ও বিশেষ উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। ডিসিপি গণেশ শিন্ডে জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন সম্পূর্ণ সজাগ রয়েছে।

এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত দু’জন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন ও স্থিতিশীল রয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৮ বছরের সোহেল আনসারির মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং ১৪ বছরের মহম্মদ আনসারির পিঠে চোট রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, লাগাতার বৃষ্টির জেরেই ঘাটকোপরের অশোকনগর এলাকায় পাহাড়ের এই অংশটি দুর্বল হয়ে ধসে পড়ে। বর্ষার মরসুমে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের তরফ থেকে পাহাড়ঘেঁষা এলাকাগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।