ইউপিআই লেনদেনে কি এবার খাটবে পকেট? জল্পনার মাঝেই রাজ্যসভায় ঐতিহাসিক ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর!

দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষকে বড় স্বস্তি দিয়ে ইউপিআই (UPI) লেনদেন নিয়ে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সম্প্রতি রাজ্যসভায় ট্যাক্সেসন বিল পাস হওয়ার পর অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ইউপিআই লেনদেন আগের মতোই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে জারি থাকবে। এর জন্য কোনো ধরনের অতিরিক্ত চার্জ বা ফি দিতে হবে না। লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও ধ্বনি ভোটে এই সংশোধনী বিল পাস হয়ে যাওয়ার পরই এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী।

গত বেশ কিছুদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে, খুব শীঘ্রই বুঝি ইউপিআই পেমেন্টের ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষকে টাকা বা সার্ভিস চার্জ দিতে হতে পারে। এই জল্পনার কারণে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছিল গভীর উদ্বেগ। সেই সমস্ত জল্পনা এবং বিভ্রান্তি সরাসরি উড়িয়ে দিয়ে নির্মলা সীতারামন সংসদে দাঁড়িয়ে দৃঢ় কণ্ঠে জানান যে, ইউপিআই পরিষেবা চালুর শুরু থেকেই যেভাবে বিনামূল্যে সাধারণ মানুষ এই সুবিধা ভোগ করে আসছে, ভবিষ্যতেও সেই নিয়মই বজায় থাকবে। সাধারণ মানুষের পকেটে কোনো অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো হবে না।

পাশাপাশি, মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর (MDR) প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, এমডিআর নিয়ে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। এই সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত আগামী দিনে একমাত্র ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া বা এনপিসিআই (NPCI) গ্রহণ করবে। সার্ভিস চার্জের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না এবং তার রূপরেখা কেমন হবে, তা সম্পূর্ণভাবে নির্ধারণ করবে এনপিসিআই। এর ফলে এটি পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, বর্তমান সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নতুন এমডিআর ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হয়নি।

অন্যদিকে, ভিসা (Visa) কিংবা মাস্টারকার্ডের (Mastercard) মতো প্রচলিত ইলেকট্রনিক মার্চেন্ট পেমেন্ট নেটওয়ার্কগুলির ক্ষেত্রে নিয়ম সম্পূর্ণ আলাদা। এই ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে ১.৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ বা তারও বেশি হারে সার্ভিস চার্জ প্রদান করে থাকে। পাশাপাশি ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রে এই চার্জের পরিমাণ সাধারণত থাকে ০.৯০ শতাংশ। তবে তা সত্ত্বেও এই সমস্ত সার্ভিস প্রোভাইডাররা সাধারণ গ্রাহকদের থেকে ইউপিআই লেনদেনের জন্য আলাদাভাবে কোনো চার্জ আদায় করে না। উল্টে ব্যবসা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে এই বিজনেস হাউসগুলি গ্রাহকদের বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট এবং নো-কস্ট ইএমআই (No Cost EMI) অফার প্রদান করে থাকে।

ফ্লিপকার্ট কিংবা অ্যামাজন পের মতো বড় বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা নিয়েও আলোকপাত করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান যে, সাধারণ ইউপিআই ব্যবহারকারীদের থেকে কোনো ধরনের চার্জ কাটা না হলেও, ক্রেতারা যখন ১০,০০০ টাকা থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে কোনো পণ্য কেনাকাটা করেন, তখন এই সার্ভিস প্রোভাইডাররা নানা ধরনের সুবিধা দিয়ে থাকে। ইনস্ট্যান্ট ডিসকাউন্ট, নো-কস্ট ইএমআই অপশন, অতিরিক্ত ক্যাশব্যাক এবং এক্সচেঞ্জ বোনাসের মতো লোভনীয় অফার পেয়ে থাকেন ক্রেতারা। এই সমস্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলি ব্যবহারকারীদের থেকে সার্ভিস চার্জ বাবদ কোনো অর্থ আদায় না করলেও নিজেদের সামগ্রিক সেলস বা বিক্রি বহুগুণ বাড়িয়ে নিতে সক্ষম হচ্ছে। আর সেই কারণেই সাধারণ ক্রেতারা এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনলাইনে নিজেদের পছন্দমতো কেনাকাটা চালিয়ে যেতে পারছেন। সরকারের এই স্পষ্ট বার্তার পর ইউপিআই ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের সমস্ত জল্পনা এবং আতঙ্ক আপাতত দূর হয়েছে।